| বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর মেজর মোজাফফরের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 19-07-2026 ইং
  • 26407 বার পঠিত
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর মেজর মোজাফফরের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি
ছবির ক্যাপশন: মেজর মোজাফফরের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

তড়িঘড়ি শাস্তি নয়, আগে বের করা হোক ‘মাস্টারমাইন্ড’: জিয়ার খুনি মোজাফফরকে নিয়ে সেনা হেফাজতে যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ

জাতীয় ও রাজনীতি ডেস্ক

সর্বশেষ আপডেট: ১৯ জুলাই, ২০২৬

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গ্রেফতার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের কাছ থেকে বেরিয়ে আসছে গা শিউরে ওঠার মতো নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। বর্তমানে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিটের হেফাজতে থাকা এই খুনিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের আদ্যোপান্ত ও নিখুঁত বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, জিয়াউর রহমানকে প্রথম কে গুলি করেছিল, তাঁর মরদেহ প্রথম কে বা কারা সরিয়েছিল, কীভাবে লাশ ট্রাকে তোলা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে ঘাতকেরা কার সাহায্যে ও কোন রুটে পালিয়েছিল—সবকিছুর হুবহু বিবরণ দিয়েছেন মোজাফফর। তবে আইনি জটিলতা এড়াতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে আড়াল বা ‘হাইড আউট’ করার চেষ্টাও করছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় এই মুহূর্তে নিরাপত্তার স্বার্থে সবকিছু প্রকাশ করছে না প্রশাসন।

তদন্তের স্বার্থে তড়িঘড়ি শাস্তির বিপক্ষে অপরাধ বিশ্লেষকেরা

মেজর মোজাফফরকে গ্রেফতারের মাধ্যমে জিয়া হত্যা মামলার তদন্তে এক যুগান্তকারী অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছেন অপরাধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। তবে তাঁর চূড়ান্ত বিচার বা শাস্তি নিশ্চিত করার আগে নেপথ্যের কুশীলবদের খোঁজার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

💬 শীর্ষ বিশ্লেষক ও সাবেক কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন:
• ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন (সাবেক উপদেষ্টা): সেনাবাহিনী থেকে তাকে আগেই পলাতক (Abscond) ঘোষণা করা হয়েছিল। আইন অনুযায়ী যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ (Joint Interrogation) করে এই নৃশংস ঘটনার নেপথ্যে জড়িত অন্যদের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন করা অত্যন্ত জরুরি।
• আব্দুল কাইয়ুম (সাবেক আইজিপি): জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলব এবং মূল মাস্টারমাইন্ড কারা ছিলেন, তা এখনো একধরনের ধোঁয়াশার মধ্যে রয়ে গেছে। অনেকের সন্দেহ, এর পেছনে এরশাদ আমলের অনেকের যোগসাজশ থাকতে পারে। তাই মূল রহস্য উন্মোচনের আগে মোজাফফরের তড়িঘড়ি শাস্তি যেন নিশ্চিত না করা হয়।
• ড. তৌহিদুল হক (সহযোগী অধ্যাপক, ঢাবি): শুধু এই ব্যক্তির শাস্তিই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে কারা রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে সুবিধাভোগী (Beneficiary) হয়েছিল এবং এর পেছনে দেশি-বিদেশি কী ধরনের গভীর ষড়যন্ত্র যুক্ত ছিল।

৪৫ বছরের পলাতক জীবন: যেভাবে কেটেছে মোজাফফরের দিন

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর দায়ের হওয়া মামলার ৬ নম্বর আসামি ছিলেন তৎকালীন মেজর মোজাফফর। তিনি ছিলেন অভ্যুত্থানের নায়ক মেজর মঞ্জুরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

হত্যাকাণ্ডের পর নিজেকে বাঁচাতে তিনি প্রথমে চট্টগ্রামের গহিন জঙ্গলে আশ্রয় নেন। পরে স্থানীয় বিভিন্ন দালাল চক্রের সহায়তায় গোপনে বর্ডার ক্রস করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালিয়ে যান। দীর্ঘ সময় ছদ্মবেশে থাকার পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে তিনি ঢাকার ডিওএইচএস (DOHS) এলাকায় ঘরের চার দেওয়ালের মাঝে নিজেকে পুরোপুরি বন্দি রেখে ‘হাইড আউট’ জীবনযাপন করছিলেন। অবশেষে গত বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জালে আটকা পড়েন ২ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষিত এই খুনি।

মাস্টারমাইন্ডদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি বিএনপির

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, মেজর (অব.) মোজাফফর ইস্যুতে সরকার কোনো ধরণের রাজনৈতিক প্রভাব খাটাচ্ছে না। সেনাবাহিনীর প্রচলিত আইনেই (কোর্ট মার্শাল) তাঁর বিচার সম্পন্ন হবে।

তবে বিএনপির শীর্ষ নেতারা এই গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতাদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি তুলেছেন। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, জিয়াউর রহমানকে হত্যা করার পর কার নির্দেশে মোজাফফর হোসেন সুপরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন এবং ভারতে যেতে ও সেখানে দীর্ঘ সময় আশ্রয় পেতে কারা তাকে প্রচ্ছন্ন সহায়তা করেছিল, তা দেশবাসীকে জানাতে হবে। বিএনপির চেয়ারম্যানের এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, অধিকতর তদন্তের স্বার্থে মোজাফফর হোসেনকে ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পেছনের মূল গডফাদারদের আড়াল করার কোনো চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুশিয়ারি দেন দলটির নেতারা।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency