জাতীয় ও রাজনীতি ডেস্ক
সর্বশেষ আপডেট: ২০ জুলাই, ২০২৬
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে না পারলে জনগণ গণতন্ত্র ও দেশের নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি চিরতরে আস্থা হারিয়ে ফেলবে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ সরকারকেই ধিক্কার দেবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে দেওয়া এক ওজস্বী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমিরে জামায়াত স্পষ্ট ভাষায় হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “জনগণের ধিক্কারের পাত্র বিরোধীদল হতে চায় না। সরকার ব্যর্থ হলে তার দায় আমরা (বিরোধীদল) নেব না। জনগণের রায় সুরক্ষার জন্যই আমাদের এই ধারাবাহিক লড়াই ও রাজপথের সংগ্রাম।”
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারি দল দেশের স্বাধীন বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কিংবা নির্বাচন কমিশন—কোনোটিই স্বাধীন অবস্থায় দেখতে চায় না। তিনি বলেন:
“সরকার ও তাদের সহযোগীরা দেশের সবকিছু আগের ফ্যাসিবাদের আলোকে ধরে রাখতে চায়। আর এই কারণেই তারা সাম্প্রতিক গণভোটের ঐতিহাসিক গণরায় মানতে গড়িমসি করছে। আমরা আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র মাটি থেকে পরিস্কার বলে দিচ্ছি—এই গণরায় বাংলার জমিনে বাস্তবায়ন হবেই, ইনশাআল্লাহ। জনগণকে অপমান করার সুযোগ আর কাউকে দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, গণভোটের মাধ্যমে দেশের ৭০ ভাগ মানুষ যে রায় দিয়েছে, আল্লাহর মেহেরবানীতে তা অবশ্যই রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এই দাবি আদায়ের জন্য জামায়াতে ইসলামী রাজপথে এবং জাতীয় সংসদে সমানতালে লড়াই চালিয়ে যাবে। দাবি সংসদে আদায় হলে ভালো, অন্যথায় রাজপথে তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে তা আদায়ে বাধ্য করা হবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো ধরনের আপস বা ‘ছাড়’ দেওয়া হবে না উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণের এই রায়কে নস্যাৎ করতে আমাদের অনেক লোভ-লালসা দেখানো হয়েছে, তবে আমরা তার সব কিছু ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। জামায়াত কখনো জনগণের সাথে বেইমানি করবে না।”
তিনি বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সরকার এখন পুনরায় স্বৈরা শাসকের ভাষায় কথা বলছে। তাদের চেলাচামুন্ডারা ও তথাকথিত ‘বটবাহিনী’ সাধারণ মানুষের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, যা আবার সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত দেয়।
🏫 বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘গণরুম ও গেস্টরুম’ সংস্কৃতির কবর:
• চব্বিশের চেতনা: ঢাবির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, চব্বিশের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গেস্টরুম ও গণরুমের মতো টর্চার সেলের চিরতরে কবর হয়ে গেছে। এই অন্ধকার সংস্কৃতি আর কখনো ফিরে আসবে না।
• সতর্কবার্তা: এখন যদি কোনো অপশক্তি বা ছাত্রসংগঠন তা পুনরায় ফিরিয়ে আনার ধৃষ্টতা দেখায়, তবে ছাত্র সমাজ তাদেরকেই ক্যাম্পাস থেকে ফিরিয়ে দেবে।
• রাজনৈতিক অপচর্চা: তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো রাজনৈতিক অপচর্চামুক্ত হয়নি এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক অনিয়ম করা হচ্ছে। জামায়াত চুপচাপ আছে বলে কেউ যেন মনে না করে তারা ঘুমিয়ে গেছে—এই মর্মে তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করেন।
দেশী, আঞ্চলিক কিংবা আন্তর্জাতিক—কোনো অপশক্তির কাছেই মাথা নত না করে যুবকদের আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য বাকি জীবন উৎসর্গ করার ওয়াদা করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
উক্ত অনুষ্ঠানে আমিরে জামায়াতের সাথে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন ও সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ কামাল হোসেন এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খানসহ ডাকসু নেতৃবৃন্দ এবং জামায়াত-শিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে ডা. শফিকুর রহমান ডাকসু নেতৃবৃন্দের সাথে এক সৌজন্য মতবিনিময় সভায় মিলিত হন এবং পরবর্তীতে ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |