আন্তর্জাতিক ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ডেস্ক
২৬ জুলাই, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গত ১৫ দিনের তুমুল সামরিক সংঘাতে ২০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সাথে পেন্টাগনের প্রকাশিত হতাহতের পরিসংখ্যানকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও বানানো’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেন, ওয়াশিংটন তাদের সেনা হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির যে হিসাব প্রকাশ করেছে, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে বহুগুণ বেশি।
সেনা নিহতের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ: পেন্টাগন যেখানে প্রাথমিক ১৮ জন থেকে সংশোধন করে ১৪ জন মার্কিন সেনা নিহতের কথা স্বীকার করেছে, সেখানে আইআরজিসির দাবি নিহত সেনার সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে।
সাংবাদিক প্রবেশের চ্যালেঞ্জ: তেহরানের দাবি, যে ৮টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, সেখানে স্বাধীন সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার দিলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়বে।
বিপুল সরঞ্জাম ধ্বংসের পরাকাষ্ঠা: আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী ‘অপারেশন ভিক্টরি-২’-এ মার্কিনীদের ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, ১৭টি ড্রোন, ১টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, ১টি সি-১৭ পরিবহন বিমান ও ৮টি ট্যাঙ্কার বিমান ধ্বংস করা হয়েছে।
পেন্টাগনের নীরবতা: আইআরজিসির পক্ষ থেকে তোলা সরঞ্জাম ধ্বংস ও বর্ধিত হতাহতের সর্বশেষ দাবির বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো সরাসরি কোনো মন্তব্য আসেনি।
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি অভিযোগ করেন যে, বিশ্বজনমত ও নিজ দেশের রাজনীতিতে বিপর্যয় এড়াতে ওয়াশিংটন তাদের সেনা নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ধামাচাপা দিচ্ছে।
ইরানি বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের ৮টি মার্কিন ঘাটিতে চালানো ‘অপারেশন ভিক্টরি-২’ হামলায় তাদের ক্ষেপণাস্ত্র নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হেনেছে। কেবল একটি ঘাঁটিরই ২০টি স্থাপনা ও বিমানে রাখার হ্যাঙ্গার পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে।
আইআরজিসি (IRGC) বনাম পেন্টাগন (Pentagon) ক্ষয়ক্ষতি রিপোর্ট:
┌──────────────────────────────┬──────────────────────────────┐
│ আইআরজিসির দাবি │ পেন্টাগনের তথ্য │
├──────────────────────────────┼──────────────────────────────┤
│ • নিহত সেনা: ২০০+ জন │ • নিহত সেনা: ১৪ জন (সংশোধিত) │
│ • আহত সেনা: বিপুল সংখ্যক │ • আহত সেনা: সীমিত সংখ্যক │
│ • এফ-১৫ যুদ্ধবিমান: ১টি │ • সরঞ্জাম ধ্বংস: অপ্রকাশিত │
│ • জ্বালানি সরবরাহকারী: ৮টি │ • সাংবাদিক প্রবেশ: নিয়ন্ত্রিত │
└──────────────────────────────┴──────────────────────────────┘
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিরপেক্ষ উৎস না থাকায় বা যুদ্ধাঞ্চলের আকাশ ও কড়া নিরাপত্তার কারণে ইরানের দাবি করা এই বিশাল সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস ও বিপুল হতাহতের খবর স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ তথ্যযুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা │
├─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┤
│ • তথ্য গোপন বনাম মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ: দুই পক্ষই নিজেদের অভ্যন্তরীণ │
│ জনমত ধরে রাখতে এবং শত্রুকে দুর্বল দেখাতে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালাচ্ছে। │
│ • ঘাঁটিসমূহের নিরাপত্তা ও কৌশল: পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন │
│ অবকাঠামোর ওপর ইরানের হাইপারসনিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র প্রভাব। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাটিগুলোর ভেতরে আদতে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা স্পষ্ট নয় কারণ প্রতিটি ঘাঁটিতেই কড়া সামরিক সেন্সরশিপ জারি রাখা হয়েছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া মূলত ওয়াশিংটনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কৌশল।
১৫ দিনের এই বিধ্বংসী সংঘাতের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সাময়িক বিরতি এলেও, উভয় পক্ষের এই দাবির পাল্টাপাল্টি লড়াই প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো অনেক দূর।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |