| বঙ্গাব্দ

ইরানে নারীদের পোশাকবিধি বাস্তবায়নে ড্রোন ও অ্যাপ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-03-2025 ইং
  • 3846364 বার পঠিত
ইরানে নারীদের পোশাকবিধি বাস্তবায়নে ড্রোন ও অ্যাপ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত
ছবির ক্যাপশন: ইরানে নারীদের পোশাকবিধি বাস্তবায়নে ড্রোন ও অ্যাপ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত

ইরানে নারীদের পোশাকবিধি বাস্তবায়নে ড্রোন ও অ্যাপ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত

ইরান সরকার বরাবরই নারীদের হিজাব পরা এবং পোশাকবিধি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশটির আইন অনুযায়ী, নারীদের জন্য হিজাব পরা বাধ্যতামূলক এবং এই নিয়ম ভঙ্গ করলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। এবার, নারীদের পোশাকের ব্যবহারের ওপর নজরদারি আরও কঠোর করার জন্য ইরান ড্রোন ও অ্যাপ ব্যবহার শুরু করেছে।

বিশেষ অ্যাপ 'নাজের' ব্যবহার

ইরান সরকার জনগণকে উৎসাহিত করছে বিশেষ একটি অ্যাপ ব্যবহার করতে, যার নাম ‘নাজের’। এই অ্যাপের মাধ্যমে, সাধারণ মানুষ ইরানে নারীদের পোশাকবিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগ জানাতে পারবেন। এই অ্যাপটি সরকারের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নজরদারি’ কৌশল বাস্তবায়নে সহায়তা করছে।

ইরান সরকার এই নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে, নারীদের পোশাকবিধি অমান্য করার ঘটনা পর্যবেক্ষণের জন্য জনগণকেও আরও সক্রিয় করার চেষ্টা করছে। “নাজের” অ্যাপ ব্যবহার করে ইরান সরকার নারীদের পোশাকের উপর আরও কঠোর নজরদারি রাখতে চায়, যাতে হিজাব পরিধান নিশ্চিত করা যায়।

ড্রোন ও নিরাপত্তা ক্যামেরার ব্যবহার

তেহরান ও দক্ষিণ ইরানে, বিশেষ করে প্রধান সড়কগুলোতে নারীদের হিজাব পরিধান নিশ্চিত করার জন্য ড্রোন এবং নিরাপত্তা ক্যামেরার ব্যবহারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এই ড্রোনগুলি ও ক্যামেরাগুলি শহরের রাস্তায় অবস্থানরত নারীদের পোশাক নজরদারি করতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে হিজাব পরিধান না করা নারীদের শনাক্ত করা যায় এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া যায়।

২০২২ সালের মাহশা আমিনির মৃত্যু এবং বিক্ষোভ

ইরানে নারীদের পোশাকবিধি নিয়ে সরকার ও সাধারণ জনগণের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, মাহশা আমিনির মৃত্যুতে ব্যাপক বিক্ষোভের সৃষ্টির পরেও নারীরা নিয়মতান্ত্রিক বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছেন। মাহশা আমিনি, যিনি তেহরানে পুলিশি হেফাজতে মারা যান, তার মৃত্যুর পর ইরানে নারীদের পোশাকবিধি বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের প্রতিবাদ সৃষ্টি হয়েছিল।

এখনো, ২০২২ সালের সেই বিক্ষোভের আড়াই বছর পরেও, নারীরা ইরানে নানা ধরনের নিয়মতান্ত্রিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী অবিরতভাবে সড়কগুলোতে, বিশেষ করে অনাবৃত নারীদের খোঁজে নজরদারি ক্যামেরা ব্যবহার করছে। এই নজরদারি ক্যামেরাগুলি প্রয়োগ করা হচ্ছে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে, যেখানে নারীরা হিজাব পরছেন কিনা তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইরানের নতুন পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া

ইরানে এই নতুন নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন ও অ্যাপ ব্যবহারের সিদ্ধান্তের প্রতি সাধারণ জনগণের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কিছু মানুষ সরকারের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন, কারণ এটি তাদের মতে সমাজে নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। তবে, অনেকেই এই পদক্ষেপকে সরকারের পক্ষ থেকে নারীদের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখছেন।

বিশেষ করে মানবাধিকার সংস্থাগুলি ইরানে নারীদের ওপর সরকারের শাসন ও নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তাদের মতে, নারীদের পোশাকের ওপর রাষ্ট্রীয় নজরদারি তাদের মৌলিক স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘন করছে।

নারীদের অধিকার ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

ইরানে নারীদের অধিকার এখনও অনেক ক্ষেত্রে সীমিত, এবং সরকার এই বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। হিজাব পরিধান নিশ্চিত করার জন্য সরকারের এই নতুন ব্যবস্থা সম্ভবত নারীদের অধিকার আন্দোলনের ক্ষেত্রে আরও বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে। অনেকেই মনে করেন, ইরান সরকার নারীদের পোশাকের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রেখে তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকারগুলোকে আরও সংকুচিত করবে।

এদিকে, নারীদের স্বাধীনতার দাবিতে ইরানে চলমান বিক্ষোভ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবাদ আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হতে পারে, যেখানে নারীদের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠতে পারে।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency