মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ডেস্ক
২৯ জুলাই, ২০২৬
ইরাকের সাতটি পৃথক এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান। একই সাথে এই প্রাণঘাতী হামলাকে ইরাকের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি ‘নগ্ন আগ্রাসন’ বলে আখ্যায়িত করেছে তেহরান।
বুধবার (২৯ জুলাই) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের কথা তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের চরম পরিণতি ভোগ করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
হামলার বিবরণ: ইরাকের সাতটি ভিন্ন স্থানে আমেরিকা ও সৌদি আরবের সমন্বিত বিমান হামলায় শিয়া মিলিশিয়া জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (PMF) ২০ জন যোদ্ধা নিহত এবং অন্তত ৩২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া: হামলাকে বেআইনি ঘোষণা করে তেহরান জানিয়েছে, যুদ্ধ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি নীল নকশার অংশ হিসেবেই এই আঘাত হানা হয়েছে।
সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ: ইরাকের সরকার ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে তেহরান বলেছে, এই প্রাণঘাতী হামলার দায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক সহযোগীদেরই নিতে হবে।
আন্তর্জাতিক তথ্যসূচক: কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই হতাহতের ঘটনা ও বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির খবর নিশ্চিত করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিহত ইরাকি নাগরিকদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়:
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়:
"ইরাকের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের এই বেপরোয়া হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। এটি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের ব্যাপ্তি ও সংঘাত বাড়াতে চাওয়ার অশুভ আকাঙ্ক্ষারই বহিঃপ্রকাশ। এই অপরাধমূলক, অমানবিক ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে উদ্ভূত যেকোনো বিপজ্জনক পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররাই এককভাবে দায়ী থাকবে।"
💥 ইরাকে মার্কিন-সৌদি যৌথ হামলার সমীকরণ (জুলাই ২০২৬):
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • আক্রান্ত এলাকা : ইরাকের সাতটি কৌশলগত সামরিক ও বেসামরিক অঞ্চল। │
│ • প্রধান লক্ষ্যবস্তু : শিয়া মিলিশিয়া জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (PMF)।│
│ • ক্ষয়ক্ষতি : ২০ জন সদস্য নিহত এবং ৩২ জন সদস্য গুরুতর আহত। │
│ • কূটনৈতিক সংকট : ইরাক ও ইরানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার দাবি। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর অংশ হিসেবে স্বীকৃত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর ওপর মার্কিন ও সৌদি বাহিনীর যৌথ হামলায় সমগ্র ইরাকজুড়ে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য ফ্রন্টে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরাকের এই হামলা তেহরান, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যকার পরোক্ষ সংঘাত বা প্রক্সি যুদ্ধকে (Proxy War) সরাসরি সামরিক মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।
🌐 মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য নিরাপত্তা সংকট (২০২৬):
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ ১. ইরাক-ইরান কৌশলগত অক্ষ : এই হামলার পর ইরাকের পার্লামেন্টে মার্কিন বাহিনী │
│ সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি আবারও জোরালো হবে। │
│ ২. উপসাগরীয় আঞ্চলিক ঝুঁকি : রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক স্বাভাবিকতার│
│ প্রক্রিয়া এই যৌথ হামলায় চরম ধাক্কা খেতে পারে। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ ইরাক ফ্রন্টে মার্কিন-সৌদি অক্ষ ও ইরানের কৌশল │
├─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┤
│ • পিএমএফ-এর অবস্থান: আনুষ্ঠানিকভাবে পিএমএফ ইরাকি সশস্ত্র বাহিনীর অংশ হলেও │
│ যুক্তরাষ্ট্র তাদের ইরানের ছায়া শক্তি (Proxy) হিসেবে গণ্য করে। │
│ • যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি: যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অক্ষ যদি ইরাকের ভেতরে আরও │
│ হামলা বাড়ায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে 'অল-আউট' আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।│
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘তথ্যসূত্র (Source): আল জাজিরা (Al Jazeera)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |