বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৫তম জন্মবার্ষিকী আজ
আজ ১৭ মার্চ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৫তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২০ সালের এই দিনে তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে বঙ্গবন্ধুর অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী পালন করা হতো বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে। প্রতি বছর আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করত। কেন্দ্রীয়ভাবে বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি পালিত হতো। তবে, এবার ১৭ মার্চের দিনটি সাদামাটাভাবে কাটছে। এর পেছনে রয়েছে একাধিক রাজনৈতিক কারণে পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এবং আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান, সুতরাং দলীয়ভাবে তেমন কোনো আয়োজনের খবর পাওয়া যায়নি।
মুক্তিযুদ্ধের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথপ্রদর্শক। ১৯৭১ সালে তার নেতৃত্বে একত্রিত হয়ে বাঙালি জাতি যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করে। জাতির পিতার অনুপ্রেরণায় মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া লাখো মানুষের রক্তস্রোতের মধ্যে বঙ্গবন্ধু নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ পায় স্বাধীনতা, এবং তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের চিরকালীন প্রতীক।
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে নানা পোস্ট এবং ভিডিও শেয়ার করা হচ্ছে। তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন মুহূর্ত এবং বাঙালি জাতির মুক্তির সংগ্রামে তার অবদান নিয়ে স্মরণ করা হচ্ছে।
শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তিনি ১৯২৭ সালে গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং কিশোর বয়সেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় তাকে প্রথমবার কারাবন্দি হতে হয়েছিল। এভাবে তার জীবন ছিল সংগ্রাম এবং সংকল্পের।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতি একতাবদ্ধ হয়ে পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে, আর তার নেতৃত্বেই দেশ স্বাধীন হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১৭ মার্চকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়। তবে, পরবর্তীতে অন্তবর্তী সরকারের সময়ে ১৭ মার্চ জাতীয় দিবসের তালিকা থেকে বাদ পড়ে এবং দিবসটির সরকারি ছুটিও বাতিল হয়ে যায়।
এছাড়া, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং তাঁর সংগ্রামিক ইতিহাস এখনো দেশের জনগণের হৃদয়ে বেঁচে রয়েছে। আজকের এই দিনটি সেই সংগ্রামী নেতা, স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তার অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি সুযোগ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৫তম জন্মবার্ষিকী বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন, যা জাতির পিতার অমর স্মৃতিকে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |