| বঙ্গাব্দ

তামাকমুক্ত বাংলাদেশে শক্তিশালী আইন প্রণয়নের দাবি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 18-03-2025 ইং
  • 3802911 বার পঠিত
তামাকমুক্ত বাংলাদেশে শক্তিশালী আইন প্রণয়নের দাবি
ছবির ক্যাপশন: তামাকমুক্ত বাংলাদেশে শক্তিশালী আইন প্রণয়নের দাবি

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের দাবি

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের জন্য বিশেষজ্ঞরা শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এক নীতিনির্ধারনী আলোচনা সভায় তারা এই দাবি জানান। সভায় উপস্থিত ছিলেন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, একাডেমিক গবেষক, সমাজের সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

প্রধান আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনগুলির সাথে সঙ্গতি রেখে তামাক পণ্য নিয়ন্ত্রণে সুপারিশকৃত কার্যকর পদক্ষেপ। আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্তমানে দেশে তামাক সেবন ও তার ক্ষতিকর প্রভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী এবং কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অত্যন্ত জরুরি।

এ উপলক্ষে মূল প্রবন্ধে তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোবাকো কন্ট্রোল (FCTC) এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রণীত খসড়া আইন সংশোধনীগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৬টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:

  1. অধূমপায়ীদের সুরক্ষার জন্য পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বিলুপ্ত করা।
  2. তামাকপণ্যের বিক্রয়কেন্দ্রে প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, যাতে তামাক পণ্যের প্রচার বন্ধ হয়।
  3. তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে তামাকের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করে।
  4. ই-সিগারেট বা ইমার্জিং হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্ট উৎপাদন, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা।
  5. তামাকপণ্যের সকল প্রকার খুচরা ও খোলা বিক্রয় বন্ধ করা।
  6. সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা, যাতে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণ আরো সচেতন হয়।

এছাড়া, আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা সরকারের কাছে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী দ্রুত পাশ করার জন্য প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে আলোচনা করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আইনগত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, তামাকমুক্ত সমাজ গঠন করতে হলে এ ধরনের আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে জনগণ স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে পারে এবং তামাকের খারাপ প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে। এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হলে তামাকের ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য কমতি আসবে এবং এটি ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় থেকে দেশকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগটি তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency