প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
নামাজের অন্যতম প্রধান ও অপরিহার্য একটি শর্ত হলো সতর ঢাকা। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে সালাতের সময় শরীর ও মাথার চুল পুরোপুরি আবৃত রাখা ফরজ। তবে প্রায়ই দেখা যায়, তাড়াহুড়ো বা অজ্ঞতাবশত পাতলা ওড়না দিয়ে মাথা ঢাকলে চুল কিছুটা দৃশ্যমান হয়ে যায়, যা নিয়ে অনেকের মনেই নানা সংশয় কাজ করে। ইসলামিক ফিকহ ও শরিয়তের আলোকে পাতলা ওড়নার ব্যবহার, চুল উন্মুক্ত হওয়ার বিধান এবং চুল খোঁপা করার সঠিক মাসয়ালা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
নামাজে নারীর চুল সম্পূর্ণ ঢেকে রাখা জরুরি। তাই ওড়না বা হিজাব এমন পরিমিত ও ঘন হওয়া আবশ্যক, যা মাথায় দিলে ভেতর থেকে চুল বা চামড়া দেখা যায় না। বাজারে কিছু পাতলা ওড়না বা কাপড় রয়েছে, যা দিয়ে মাথা ঢাকার পরও মাথার চুল স্পষ্টভাবে বাইরে থেকে দেখা যায়। এ ধরনের স্বচ্ছ বা পাতলা ওড়না মাথায় দিয়ে নামাজ আদায় করলে নামাজ সহিহ বা শুদ্ধ হবে না। (সূত্র: আল-মাবসুত, সারাখসি ১/৩৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫১৪; রদ্দুল মুহতার ১/৪১০)
মোটা ও মানসম্মত ওড়না পরিহিত অবস্থায় যদি অনিচ্ছাকৃত বা অসাবধানতাবশত দু-একটি চুল বের হয়ে যায়, তবে সঙ্গে সঙ্গেই নামাজ ভেঙে যায় না। ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, মহিলাদের সতরের ক্ষেত্রে মাথার সব চুল মিলে মূলত একটি একক অঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুতরাং, মাথার মোট চুলের এক চতুর্থাংশ (১/৪ অংশ) বা তার বেশি অংশ যদি এমন দীর্ঘ সময় ধরে উন্মুক্ত থাকে—যা ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’ তিনবার বলার সমপরিমাণ সময় হয়—তবে কেবল তখনই নামাজ ফাসেদ বা নষ্ট হবে; অন্যথায় দ্রুত চুল ঢেকে নিলে নামাজ নষ্ট হবে না। (সূত্র: ফতোয়ায়ে শামি ১/৪০৯; ফাতহুল কাদির ১/২২৬)
অবশ্য এ ক্ষেত্রে সবসময় পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, যেন কোনোভাবেই চুলের কোনো অংশ বের হয়ে না যায়।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, নামাজের সময় চুল কি বেঁধে বা খোঁপা করে রাখা উচিত, নাকি খোলা রাখা ভালো?
ইসলামি শরিয়তে এ বিষয়ে কোনো কঠোর নিষেধাজ্ঞা নেই। নামাজের সময় চুল খোঁপা করে রাখা বা স্বাভাবিক রাখা দুটোই জায়েজ। তবে যেহেতু চুল খোলা রাখলে অসতর্কতাবশত রুকু-সেজদার সময় তা ওড়নার ভেতর থেকে উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাই নামাজে চুল সুন্দরভাবে খোঁপা করে বা পরিপাটি করে বেঁধে রাখাই নিরাপদ ও শ্রেয়। (সূত্র: শরহুল মুনইয়া ২১২; দুররুল মুখতার ১/৪০৫; আল-বাহরুর রায়েক ১/২৭০)
নারীর নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য মাথা ও চুল এমনভাবে ঢাকতে হবে, যেন তা দিয়ে চামড়া বা চুল দেখা না যায়। পাতলা কাপড়ে চুল দেখা গেলে নামাজ হবে না, তবে পর্যাপ্ত মোটা ওড়না পরা অবস্থায় সামান্য চুল অনিচ্ছায় বের হয়ে গেলে এবং দ্রুত ঠিক করে নিলে নামাজ নষ্ট হয় না। পূর্ণ সতর্কতা ও আদবের সঙ্গে ইবাদত সম্পন্ন করার মাধ্যমেই আমাদের নামাজ পরিপূর্ণতা লাভ করে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |