| বঙ্গাব্দ

লাইলাতুল কদরের রাতে আল আকসা মসজিদে লাখো মুসল্লির উপস্থিতি ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-03-2025 ইং
  • 3789991 বার পঠিত
লাইলাতুল কদরের রাতে আল আকসা মসজিদে লাখো মুসল্লির উপস্থিতি ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ
ছবির ক্যাপশন: লাইলাতুল কদরের রাতে আল আকসা মসজিদে লাখো মুসল্লির উপস্থিতি ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ

লাইলাতুল কদরের রাতে আল আকসা মসজিদে লাখো মুসল্লির উপস্থিতি, নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মধ্যে ইবাদত

রমজানের শেষ দশক মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র, বিশেষ করে লাইলাতুল কদরের রজনী। এই রাতটি মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত মহিমান্বিত, কারণ এই রাতে কোরআন শরীফ নাজিল হয়েছিল এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত বর্ষিত হয়। মুসলিমরা এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি, ক্ষমা প্রার্থনা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বিশেষ দোয়া করে থাকেন।

এ বছরও পবিত্র শহর জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদে লাখো মুসল্লি একত্রিত হন লাইলাতুল কদরের রাতে ইবাদত করার জন্য। আল আকসা মসজিদ মুসলমানদের জন্য শুধু ধর্মীয় পবিত্র স্থান নয়, এটি এক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর রমজানের শেষ দশকে আল আকসায় লাখো মুসল্লি জমায়েত হন, বিশেষত লাইলাতুল কদরের রাতে, যেটি মুসলিমদের জন্য এক অতি গুরুত্বপূর্ণ রাত।

ইসলামিক ওয়াকফ (এন্ডওমেন্ট) কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এবছর প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ লাইলাতুল কদরের রাতে আল আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন। পশ্চিম তীর, জেরুজালেম এবং দূর-দূরান্তের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসল্লিরা এসে এই ঐতিহাসিক মসজিদে উপস্থিত হন। তবে, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী তাদের জন্য একাধিক চেকপয়েন্ট স্থাপন এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল, যার ফলে প্রবেশের সময় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়।

মুসল্লিদের জন্য চেকপয়েন্টে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল। বেশ কয়েকটি গেট বন্ধ করে রাখা হয়েছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর তল্লাশি চালান। এক্ষেত্রে, পশ্চিম তীরের বাসিন্দা জাকিয়াহ আওয়াদ তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, “চেকপয়েন্টে ভীষণ ভোগান্তি হয়েছিল। তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে আল আকসায় প্রবেশের সুযোগ পেয়েছি। যখন প্রবেশের অনুমতি পেলাম, তখন যে আনন্দ অনুভব করেছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। চোখে জল চলে এসেছিল।”

অবশেষে মুসল্লিরা মসজিদে প্রবেশ করে তারাবীহ সহ সারারাত ইবাদত-বন্দেগি করেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও শান্তির জন্য বিশেষ দোয়া করেন। বিশেষত গাজাবাসীদের মুক্তি ও কল্যাণের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। মুসল্লিরা আশাবাদী, আল্লাহ তাদের দোয়া কবুল করবেন এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি আসবে।

ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাঝেও, মুসল্লিদের মধ্যে আল আকসা মসজিদে নামাজ আদায়ের তীব্র ইচ্ছা এবং দৃঢ় বিশ্বাস তাদের হাল ছাড়তে দেয়নি। আল আকসা মসজিদ ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান এবং এটি মুসলিমদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে। মসজিদটি শুধু ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্র নয়, এটি প্যালেস্টাইনের অধিকার ও প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী প্রতীকও।

এ বছর লাইলাতুল কদরের রাতে আল আকসায় লাখো মুসল্লির উপস্থিতি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, দৃঢ়তা এবং আধ্যাত্মিক সশক্তির প্রমাণ। ইসরায়েলি বাহিনীর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পরেও, মুসলিমরা এই পবিত্র মসজিদে উপস্থিত হয়ে তাদের প্রার্থনা ও ইবাদত সম্পাদন করেছে। এটি মুসলমানদের দৃঢ়তার একটি উদাহরণ এবং মুসলিম বিশ্বে একতা ও প্রতিরোধের শক্তিশালী বার্তা।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency