| বঙ্গাব্দ

সোশ্যালমিডিয়া থেকে মেইনস্ট্রিমে অভিনয়ে কতটা সফল তারা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-10-2026 ইং
  • 17087 বার পঠিত
সোশ্যালমিডিয়া থেকে মেইনস্ট্রিমে অভিনয়ে কতটা সফল তারা
ছবির ক্যাপশন: মিডিয়া থেকে মেইনস্ট্রিমে অভিনয়ে কতটা সফল তারা

সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল সংস্কৃতি ও মূলধারার অভিনয়: প্রতিভার কদর নাকি বাণিজ্যিক সমীকরণ?

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

একসময় অভিনয়ের জগতে পা রাখতে হলে দীর্ঘ অডিশনের লাইন, থিয়েটারের মঞ্চে বছরের পর বছর ঘাম ঝরানো কিংবা কঠিন সংগ্রামের পথ পাড়ি দিতে হতো। কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল যুগে সেই সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেছে। হাতের মুঠোফোনের ছোট্ট স্ক্রিন, ১৫ সেকেন্ডের একটি টিকটক ভিডিও, ইউটিউবের শর্টস কিংবা ফেসবুক রিলস এখন রাতারাতি তারকা বানিয়ে দিচ্ছে বহু তরুণ-তরুণীকে। ইনবক্সে নাটকের অফার, বিজ্ঞাপনের ডাক কিংবা সিনেমার প্রস্তাব পাওয়া এখন আর কোনো রূপকথা নয়, বরং বর্তমানের চেনা বাস্তবতা।

প্রশ্ন উঠেছে—এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা কি আসলেই প্রকৃত প্রতিভার প্রমাণ, নাকি এটি কেবল ভিউ ও ফলোয়ারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বাণিজ্যিক হিসাবের এক নতুন মারপ্যাঁচ?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: অভিনয়ের নতুন প্রবেশদ্বার

সোশ্যাল মিডিয়া আজ বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির প্রধান কাস্টিং ফ্লোরে পরিণত হয়েছে। এর অগ্রপথিক হিসেবে যদি কাউকে ধরা হয়, তবে ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের নাম সবার আগে আসে। ২০১২ সাল থেকে ইউটিউবে শর্ট ফিল্ম, প্যারোডি ও বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে মজার ভিডিও বানিয়ে ভাইরাল হওয়ার পর তিনি নাটকে কাজ শুরু করেন। যদিও শুরুতে তিনি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, তবুও পরবর্তীতে মাবরুর রশীদ বান্নাহর নাটকে অভিনয় করে মূলধারায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। বর্তমানে তাঁর সামাজিক মাধ্যমে মিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে।

সালমানের পথ ধরে পরবর্তীতে সামিরা খান মাহি, আরোহী মিম, প্রত্যয় হিরণ, সুমাইয়া রিমু, শায়লা সাথী, মিরাজ খান এবং অনামিকা ঐশীর মতো অনেকেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের গণ্ডি পেরিয়ে মূলধারার টিভি নাটক ও বিভিন্ন শো-বিজে জায়গা করে নিয়েছেন।

নির্মাতারা কেন ঝুঁকছেন ইনফ্লুয়েন্সারদের দিকে?

বিনোদন পাড়ায় আজকাল ‘ভিউ বাণিজ্য’ ওপেন সিক্রেট। পরিচালকরা কাস্টিংয়ের টেবিলে এখন অভিনয়ের দক্ষতার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার ফলোয়ার সংখ্যা এবং এনগেজমেন্টকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সাধারণ দর্শকদের একটি বড় অংশের কাছে এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের তুমুল জনপ্রিয়তা থাকায় প্রযোজকরাও ব্যবসার খাতিরে তাদের নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। দর্শক চাহিদা বাড়ার কারণে টিভি চ্যানেল থেকে শুরু করে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোও তাদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

মূলধারায় এসে কে কেমন করছেন?

সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে যারা নাটক বা মিডিয়ায় প্রবেশ করেছেন, তাদের সাফল্য বা স্থায়িত্বের চিত্রটি বেশ মিশ্র:

  • সামিরা খান মাহি: টিকটক ও ফেসবুকে লাখ লাখ ফলোয়ার থাকা মাহি মডেলিং দিয়ে শুরু করলেও তার মূল পরিচিতি আসে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে। নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়েও তিনি বর্তমানে নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন।

  • আরোহী মিম: টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে বিশাল অনুসারী নিয়ে ছোটপর্দার বিভিন্ন নাটকে প্রধান চরিত্রে কাজ করছেন।

  • প্রত্যয় হিরণ: ইউটিউবে ‘আজাইরা লিমিটেড’-এর মাধ্যমে কোটি ভিউ পেলেও মাঝেমধ্যে বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়ে খবরের শিরোনাম হয়েছেন। বর্তমানে ডিজিটাল কনটেন্ট ও নাটকে কাজ করছেন।

  • সুমাইয়া রিমু ও শায়লা সাথী: প্র্যাংক ভিডিও বা টিকটকের পরিচিত মুখ হিসেবে নাটকে এলেও একক নাটকে স্থায়ী সাফল্য পেতে তাদের আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।

  • মিরাজ খান ও অনামিকা ঐশী: টিকটক থেকে এসে নাটকে নাম লেখানো এই তারকারাও নিয়মিত কাজ করছেন, তবে ব্যক্তিগত নানা বিতর্ক ও পেশাদারিত্বের অভাবে অনেকেই মূলধারায় থিতু হতে পারছেন না।

কেন টিকছে না এই জনপ্রিয়তা? দীর্ঘমেয়াদী সংকটের কারণ

সোশ্যাল মিডিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে মূলধারায় আসা এই ইনফ্লুয়েন্সাররা অভিনয়ে এসে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খেই হারিয়ে ফেলছেন। এর পেছনে মিডিয়া বিশ্লেষকরা কয়েকটি মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন: ১. ধৈর্য ও ব্যক্তিত্বের অভাব: ১৫ সেকেন্ডের রিলস বা শর্টস ভিডিওর সঙ্গে ৩০-৪০ মিনিটের নাটকের স্ক্রিপ্ট বা চরিত্র ধারণ করার মানসিকতা ও ধৈর্যের অভাব রয়েছে অনেকের মধ্যে। ২. ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক: অশালীন পোশাক, ট্রল এবং বিতর্কিত জীবনযাত্রা তাদের দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ারের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ৩. অভিনয়ের ধারাবাহিকতার অভাব: লেখক ও সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিস্ট আপেল আকবরের মতে, “বড় ফ্রেমে টিকতে হলে যে ব্যক্তিত্ব ও ধৈর্য দরকার, তা তাদের মধ্যে অনুপস্থিত। তারা ছোট মোমেন্ট বা মিউজিক ভিডিওর জন্য মানানসই হলেও টিভি নাটক বা বড় পর্দায় অভিনয়ের দীর্ঘ ক্যাপাবিলিটি তাদের অনেকেরই নেই।”

শেষ কথা: ভবিষ্যৎ কোন পথে?

বিশ্লেষকদের মতে, সস্তা বিনোদন ও ভাইরাল সংস্কৃতিকে পুঁজির করে যখন নাটক বা সিনেমা নির্মিত হয়, তখন পুরো ইন্ডাস্ট্রির মান ও শৈল্পিক সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। যতদিন দর্শক এ ধরনের কনটেন্ট দেখবে, ততদিন প্রযোজকদের কাস্টিং টেবিলেও ভিউ-ফলোয়ারের হিসাব থাকবে।

তবে দিনশেষে টিকতে হলে কেবল ভাইরাল হওয়া যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন প্রকৃত অভিনয় প্রতিভা, একাগ্রতা এবং দীর্ঘ সাধনা। ফোনের পর্দায় এক রাতে তারকা হওয়া সম্ভব হলেও, মূলধারার বড় ক্যানভাসে নিজের নাম টিকিয়ে রাখতে হলে প্রতিভার কোনো বিকল্প নেই।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency