প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
মহাজাগতিক বিন্যাস ও ক্যালেন্ডারের হিসাবের ভিন্নতার কারণে এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০৩০ সালে একই ইংরেজি ক্যালেন্ডার বছরে দুইবার রমজান মাস পড়ার বিরল ঘটনা ঘটবে। এর ফলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এক বছরেই দুইবার পবিত্র রমজানের রোজা পালনের সৌভাগ্য অর্জন করবেন।
ইসলামী বর্ষপঞ্জি (হিজরি সন) এবং ইংরেজি গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির মধ্যকার হিসাবের পার্থক্যের কারণেই মূলত এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি ঘটে।
চাঁদ ও সূর্যের হিসাবের পার্থক্য: গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার নির্ধারিত হয় সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর আবর্তনের ওপর ভিত্তি করে, যা ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিনের হয়। অন্যদিকে, ইসলামী বর্ষপঞ্জি সম্পূর্ণভাবে চান্দ্র চক্রের (চাঁদের আবর্তন) ওপর নির্ভরশীল, যেখানে একটি বছর সাধারণত ৩৫৪ দিনের হয়ে থাকে।
১১ দিনের ব্যবধান: সৌর বছরের তুলনায় চান্দ্র বছর প্রায় ১১ দিন ছোট হওয়ায় প্রতি বছরই রমজান মাস শুরু হওয়ার সময়টি পেছনের দিকে বা প্রায় ১১ দিন করে এগিয়ে আসে।
সময়ের ব্যবধানে এই পার্থক্যের কারণে ইসলামী মাসগুলো ঘুরেফিরে চারটি ঋতুর মধ্য দিয়েই আবর্তিত হয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এই চক্রটি মোটামুটি প্রতি ৩৩ বছরে একবার পুনরাবৃত্তি হয়ে থাকে। সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে, এবং ২০৩০ সালের পর এই বিরল দৃশ্যটি আবার দেখা যাবে ২০৬৩ সালে।
হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে দুই দফায় পবিত্র রমজান মাস পালিত হবে: ১. প্রথম রমজান: ১৪৫১ হিজরি সনের রমজান মাসটি শুরু হবে ৫ জানুয়ারি ২০৩০ তারিখে (জানুয়ারি মাসজুড়ে ৩০টি রোজা)।
২. দ্বিতীয় রমজান: ১৪৫২ হিজরি সনের শুরুর দিকটি অর্থাৎ দ্বিতীয় রমজান শুরু হবে ২৬ ডিসেম্বর ২০৩০ তারিখে (ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে আরও ৬টি রোজা)।
এর ফলে ২০৩০ সালে মুসলমানদের মোট ৩৬ দিন রোজা রাখতে হবে।
মুসলমানদের জন্য ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে রোজা রাখা একই সঙ্গে একটি ধর্মীয় আবশ্যিকতা এবং আত্মিক শুদ্ধির মাধ্যম। তবে রমজান মাস কোন ঋতুতে বা কোন সময়ে পড়ছে, তার ওপর ভিত্তি করে রোজার দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় ব্যাপক তারতম্য দেখা যায়। যেমন—শীতকালে রোজা পড়লে দিনের দৈর্ঘ্য কম থাকায় তুলনামূলকভাবে কম সময় উপবাস থাকতে হয়, অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে কিছু অঞ্চলে দিনের আলো বড় থাকায় ১৭ ঘণ্টার বেশি সময়ও রোজা রাখতে হতে পারে।
যদিও জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত নিখুঁত হিসাব-নিকাশের মাধ্যমেই রমজান মাসের সম্ভাব্য সময় আগে থেকেই অনুমান করা সম্ভব, তবুও ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই আনুষ্ঠানিকভাবে রমজান মাসের শুরু নির্ধারিত হয়। সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ ঐতিহ্যগতভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে মাস শুরু করলেও অনেক দেশ বৈজ্ঞানিক হিসাবের পদ্ধতিও ব্যবহার করে থাকে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |