প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের জালে একটা শটও নিতে না পারার সেই পুরনো আক্ষেপ ও জ্বালা যেন এখন মাঠের ফুটবলে ঠিকই মিটিয়ে চলেছে আর্জেন্টিনা। প্রস্তুতি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে যেভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়ার মানসিকতা লিওনেল স্কালোনির দল দেখাচ্ছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। বলিভিয়ার বিপক্ষে ৪ গোলের জয় পাওয়ার পর এবার প্রীতি ম্যাচে বুরকিনা ফাসোকে রীতিমতো স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে হুলিমান আলভারেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, নিকো পাজ ও জুলিয়ানো সিমিওনেদের পায়ে এসেছে দুর্দান্ত সব গোল—বুরকিনা ফাসোর জালে গুণে গুণে ৭টি গোল দিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক মানসিকতা ছিল দেখার মতো। পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে তারা মোট ২৮টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে ১৬টিই ছিল অন টার্গেট। ফরোয়ার্ড তো বটেই, মিডফিল্ডাররাও নিয়মিত গোলের খাতায় নাম তুলছেন—টানা দুই ম্যাচে এই আক্রমণাত্মক রূপ দেখল ফুটবলবিশ্ব।
ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৩ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ পেনাল্টি মিস করলেও ফিরতি শটেই ঠিকই গোলের দেখা পেয়ে যান। এর মাত্র ছয় মিনিট পর আলভারেজের ক্রস বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন বুরকিনার ডিফেন্ডার মুমুনি দিয়ালো।
এরপর গোলের ব্যবধান বাড়াতে থাকে স্বাগতিকরা:
১২ মিনিটে: লাউতারোর সঙ্গে দারুণ পাস খেলে চমৎকার ফিনিশিংয়ে তৃতীয় গোলটি করেন জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি।
৩৪ মিনিটে: ম্যাক অ্যালিস্টারের নিখুঁত থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে নিজের গোল তুলে নেন নিকো পাজ (চতুর্থ গোল)।
৩৬ মিনিটে: প্রেস্তিয়ান্নির পাস থেকে দলের পঞ্চম গোলটি করেন হুলিয়ান আলভারেজ। এর মাধ্যমেই প্রথমার্ধেই ৫-০ গোলের বড় লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে কোচ লিওনিলে স্কালোনি মাঠে একাধিক পরিবর্তন আনেন। ৫৬ মিনিটে লাউতারোর বাড়ানো বল থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়ে দারুণ শটে ষষ্ঠ গোলটি করেন ফ্রান্কো মাস্তানতুওনো। জাতীয় দলের জার্সিতে ফিওরেন্তিনার এই তরুণ ফরোয়ার্ডের এটিই প্রথম গোল। এরপর আরও বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন স্কালোনি। ম্যাচের ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯০+২ মিনিট) চমৎকার এক হেডে দলের ৭ম ও শেষ গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা জুলিয়ানো সিমিওনে।
ম্যাচটি মাঠে গড়ানো নিয়েই একপর্যায়ে বড় শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বুরকিনা ফাসো দলের আসার কথা যে চার্টার্ড ফ্লাইটে ছিল, তা শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়। ফেডারেশন নতুন ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করলেও দলের সিংহভাগ ফুটবলার এতে বেঁকে বসেন। বাধ্য হয়ে কোচ আমীর আব্দৌ তখন অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গঠন করেন।
এই স্কোয়াডে মূল জাতীয় দলের মাত্র একজন খেলোয়াড়—চেক বাবেল—উপস্থিত ছিলেন। ম্যাচের মাত্র ৫ ঘণ্টা আগে আর্জেন্টিনায় পৌঁছে দলের সব সরঞ্জাম সোজা বিমানবন্দর থেকে মাঠে পাঠাতে হয়। দীর্ঘ ভ্রমণক্লান্তি, হঠাৎ ডাক পাওয়া এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতার অভাব—সব মিলিয়ে বুরকিনা ফাসো দলের ওপর দিয়ে ধকল গেছে বেশ। আর সেই সুযোগটাই দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে আর্জেন্টিনা।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |