নিজস্ব প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬
হৃদরোগের লক্ষণ সবসময় তীব্রভাবে প্রকাশ পায় না। অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গগুলো মৃদু হওয়ায় কেউ সেগুলোকে ক্লান্তি, মানসিক চাপ, গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যেতে পারেন। এতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে কিছু নির্দিষ্ট পরিবর্তন দেখা দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। হৃদরোগের সম্ভাব্য পাঁচটি সতর্কসংকেত হলো—
বুকের মাঝখান বা বাঁ দিকে চাপ, টান, ভারী লাগা, চেপে ধরা কিংবা জ্বালাপোড়ার মতো অনুভূতি হৃদযন্ত্রের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। শারীরিক পরিশ্রম বা মানসিক চাপের সময় এ ধরনের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে এবং বিশ্রামে কমেও যেতে পারে। তবে সব বুকব্যথাই হৃদরোগের কারণে হয় না।
হৃদযন্ত্র ঠিকভাবে রক্ত সঞ্চালন করতে না পারলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা বা স্বাভাবিক কাজের সময় অস্বাভাবিকভাবে হাঁপিয়ে ওঠা সতর্কসংকেত হতে পারে। এমনকি বসে বা শুয়ে থাকার সময় শ্বাসকষ্ট কিংবা রাতে ঘুম ভেঙে হাঁপানোর ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
তবে ফুসফুসের সমস্যা, রক্তস্বল্পতা, উদ্বেগ বা সংক্রমণের কারণেও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তাই কারণ স্পষ্ট না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি অস্বাভাবিক ক্লান্তি থাকে বা আগে সহজে করা কাজ করতে গিয়ে দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়তে হয়, সেটিও সতর্কসংকেত হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রের সমস্যায় বুকের অস্বস্তির পাশাপাশি ক্লান্তি, বমিভাব, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।
হৃদযন্ত্রের সমস্যাজনিত ব্যথা শুধু বুকেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। এটি হাত, কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পেটের ওপরের অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কখনো এমন ব্যথাকে পেশির সমস্যা বা হজমের গোলমাল বলেও মনে হতে পারে।
বুকে অস্বস্তির সঙ্গে শরীরের ওপরের অংশে ব্যথা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত।
হঠাৎ মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম, বমিভাব কিংবা হৃদস্পন্দন দ্রুত বা অনিয়মিত হয়ে যাওয়াও হৃদযন্ত্রের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এসব উপসর্গের আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।
বুকের অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা বা অজ্ঞান হওয়ার সঙ্গে এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
বুকে তীব্র চাপ বা অস্বস্তি কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে, অথবা এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমিভাব, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা হাত, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা ছড়িয়ে পড়লে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে হৃদরোগ হয়েছে, এমন নয়। উপসর্গের প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী ইসিজি, রক্ত পরীক্ষা, ইকোকার্ডিওগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগের সম্ভাব্য সতর্কসংকেত সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং শরীরে অস্বাভাবিক বা দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |