| বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ছত্তিশগড়ে গোলাগুলিতে ১৬ মাওবাদী গেরিলা নিহত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 29-03-2025 ইং
  • 4747239 বার পঠিত
নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ছত্তিশগড়ে গোলাগুলিতে ১৬ মাওবাদী গেরিলা নিহত
ছবির ক্যাপশন: নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ছত্তিশগড়ে গোলাগুলিতে ১৬ মাওবাদী গেরিলা নিহত

ছত্তিশগড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত ১৬ মাওবাদী গেরিলা

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে সুকমা জেলার একটি জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৬ মাওবাদী গেরিলা নিহত হয়েছে। শনিবার (২৯ মার্চ) স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে সুকমা-দান্তেওয়াড়া জেলার সীমানায় অবস্থিত উপমপল্লি কেরলাপাল এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিস্তারিত

এ ঘটনাটি ঘটে যখন সিআরপিএফ (সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স), ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি) এবং স্থানীয় পুলিশের যৌথ বাহিনী ওই এলাকায় একটি তল্লাশি অভিযান শুরু করে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাওবাদী গেরিলাদের একটি দল এই অঞ্চলের ঘন জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে, নিরাপত্তা বাহিনী শুক্রবার রাতে অভিযান শুরু করে, যাতে তারা মাওবাদীদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে।

গোলাগুলি ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিরোধ

রবিবার সকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে মাওবাদীদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়। শুরু হয় তীব্র গোলাগুলি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গোলাগুলির সময় ১৬ জন মাওবাদী গেরিলা নিহত হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী বেশ কিছু পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। মাওবাদীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক সামগ্রী ছিল, যা তাদের সামরিক শক্তি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিমাণকে নির্দেশ করে।

নিহতদের সংখ্যা ও চলমান পরিস্থিতি

ছত্তিশগড় পুলিশ জানিয়েছে, এটি এই বছরের মধ্যে সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সবচেয়ে বড় সংঘর্ষগুলির মধ্যে একটি। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত, কেবল ছত্তিশগড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মোট ১৩২ মাওবাদী গেরিলা নিহত হয়েছে, যা মাওবাদী আন্দোলনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যুদ্ধের তীব্রতা এবং পরিস্থিতির সংকটপূর্ণ অবস্থা নির্দেশ করে।

মাওবাদী আন্দোলন ও ছত্তিশগড়ের অবস্থা

মাওবাদী গেরিলাদের বিরুদ্ধে ছত্তিশগড়ে নিরাপত্তা বাহিনী বছরের পর বছর ধরে একাধিক অভিযান চালিয়ে আসছে। মাওবাদীরা, যারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সশস্ত্র বিপ্লব চালানোর জন্য পরিচিত, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করে। ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে এই গেরিলারা দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছে এবং এই এলাকাটি মাওবাদী কর্মকাণ্ডের একটি কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

ছত্তিশগড় সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার মাওবাদী গেরিলাদের মোকাবেলা করতে বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে বিশেষ বাহিনী গঠন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচারণা। তবে, এখনও এই অঞ্চলে মাওবাদী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ

এ বিষয়ে ছত্তিশগড় পুলিশ এবং সিআরপিএফের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মাওবাদী গেরিলাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই ধরনের অভিযানগুলি সাধারণত গভীর জঙ্গলে পরিচালিত হয়, যেখানে মাওবাদীরা নিজেদের অবস্থানকে নিরাপদ রাখে এবং পালানোর জন্য সুবিধাজনক স্থানে লুকিয়ে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে, নিরাপত্তা বাহিনী সতর্কভাবে অভিযান চালিয়ে প্রতিটি এলাকার পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানোর পর মাওবাদী গেরিলাদের খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছে।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও সরকারের পদক্ষেপ

ছত্তিশগড় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাওবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও জোরদার অভিযান পরিচালনা করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গ্রামে গ্রামে প্রচারণা চালানো হবে, যাতে তারা মাওবাদীদের কাছ থেকে দূরে থাকে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করে। এ ছাড়া, নিরাপত্তা বাহিনী আরো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাওবাদীদের অবস্থান শনাক্ত করতে এবং তাদের মোকাবেলা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

মাওবাদী আন্দোলন ভারতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে ছত্তিশগড়, বিহার, ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা এবং মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যে। তবে, সরকারের কঠোর পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা এখনও মাওবাদী গেরিলাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।

এটি ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি বড় ধরনের সাফল্য হলেও, মাওবাদী আন্দোলন মোকাবেলা করতে আরও দীর্ঘ সময় এবং প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যা পুরো দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency