প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিদায়লগ্নে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গোটা মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে মাঠ ছাড়ার আগে জাতীয় দলের অধিনায়ক যখন শেষবারের মতো সমর্থকদের উদ্দেশে বিদায়ী বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি তরুণ মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। মাঠের মাঝখানেই সতীর্থদের সামনে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় চেলসি তারকাকে—যে ছবি ও ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম ছেড়ে যাওয়ার সময় সংবাদমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’-এর মুখোমুখি হয়ে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ২৫ বছর বয়সি এই মিডফিল্ডার। এনজো বলেন, “সত্যি বলতে আজকের দিনটি ভীষণ আবেগের। মনের মধ্যে নানা রকম অনুভূতির তোড়জোড় চলছে। আশা করি লিও আজকের সময়টুকু উপভোগ করেছেন। আমরা তাকে খুব মিস করব।”
মেসির এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে যেন বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো এনজো ফার্নান্দেজের জীবনে। আজ থেকে ঠিক এক দশক আগে, ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর যখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িক সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি, তখন মাত্র ১৫ বছর বয়সের এক কিশোর এনজো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আইডলকে উদ্দেশ করে একটি মনঃপুত খোলা চিঠি লিখেছিলেন।
সেদিন সেই চিঠিতে মেসিকে নিজের অবসরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আকুল অনুরোধ জানিয়েছিলেন তরুণ এনজো। পরবর্তীতে বড় হয়ে মূল দলে সুযোগ পাওয়ার পর নিজেই সেই চিঠি লেখার কথা নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। শৈশবে মেসির বয়স আর নিজের বয়সের হিসাব কষে তিনি প্রায়ই ভাবতেন, কোনোদিন কি আকাশি-সাদা জার্সিতে নিজের সেই স্বপ্নের নায়কের সঙ্গে একই মাঠে খেলার সৌভাগ্য তার হবে কি না!
পরবর্তীতে সেই কিশোরের সুপ্ত স্বপ্ন কেবল বাস্তবতাই হয়নি; বরং কাতারের সবুজ মাঠে আইডল মেসির কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে দেশের জন্য পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফিও উঁচিয়ে ধরেছিলেন এনজো।
এ বছরের আগস্টে মেসি যখন জাতীয় দল থেকে পাকাপাকিভাবে বিদায়ের সিদ্ধান্তের কথা জানান, তখন তাকে নিয়ে আরও একটি দীর্ঘ ও হৃদয়গ্রাহী চিঠি লিখেছিলেন এনজো। সেই চিঠিতে কিশোরবেলার সেই হিসাব-নিকাশের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি লিখেছিলেন, আইডলের সঙ্গে কেবল বল পায়ে খেলার স্বপ্ন নিয়ে জাতীয় দলে পা রাখলেও তিনি এমন একজন মানুষ পেয়েছেন যিনি প্রথম দিন থেকেই তাকে দলের একজন করে তুলেছিলেন।
মেসি যেভাবে তাকে মাঠে ও মাঠের বাইরে নিয়মিত ভালো পরামর্শ দিয়ে বড় ভাইয়ের মতো আগলে রেখেছিলেন, সেই কৃতজ্ঞতার কথা স্মরণ করে এনজো লিখেছিলেন—“আপনার এই ঋণ আমি কোনোদিন ভুলব না।” আজ সেই আইডল ও অভিভাবককে বিদায় জানানোর ক্ষণে এনজোর সেই চোখের জল যেন কোটি ভক্তেরই অব্যক্ত বেদনার প্রতিচ্ছবি হয়ে রইল।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |