প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
অনেকেই ভাবেন, মেদহীন বা ফ্ল্যাট পেট পাওয়ার একমাত্র উপায় বুঝি কেবল পেটের নানাবিধ ব্যায়াম করা। তবে বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খানের বিখ্যাত পুষ্টিবিদ ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞ ঋজুতা দিবেকর এ ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার মতে, শুধু ক্রাঞ্চেস বা পেটের কসরত করলেই পেট মেদহীন হয় না; বরং পা ও পিঠের পেশি দুর্বল এবং শক্ত হয়ে যাওয়ার কারণেও পেট বাইরের দিকে ঝুলে বা ফুলে থাকতে পারে। তাই তলপেটের মেদ ঝরাতে পিঠের নমনীয়তা এবং পায়ের শক্তি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
পুষ্টিবিদ ঋজুতা দিবేకরের মতে, পিঠের পেশি অতিরিক্ত শক্ত হয়ে গেলে এবং পায়ের পেশি দুর্বল থাকলে শরীরের সামগ্রিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর প্রভাবে মেরুদণ্ড ও তলপেটের স্বাভাবিক ভঙ্গি বদলে যায় এবং পেট সামনের দিকে বেশি ঝুঁকে বা ঝুলে পড়ে। নিয়মিত পিঠের ব্যায়াম এবং সঠিক স্ট্রেচিংয়ের মাধ্যমেই কেবল এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
সামনে দুর্গোৎসব বা যেকোনো বড় উৎসবের আগে অনেকেই ওজন কমানো ও ফিট থাকার জন্য হঠাৎ করেই কঠোর ডায়েট বা শরীরচর্চায় মন দেন। কিন্তু অনেক সময় কড়া ডায়েট আর কসরত করেও আশানুরূপ ফল মেলে না।
অনেকেই ওজন ঝরাতে গিয়ে ভাতকে প্রধান শত্রু মনে করে খাদ্যতালিকা থেকে একেবারেই বাদ দিয়ে দেন। তবে ঋজুতা দিবেকর এর সম্পূর্ণ বিপরীতে হাঁটছেন। তার মতে, ভাত, ডাল, সবজি, মাছ, মাংস— বাঙালি প্রচলিত সব খাবার খেয়েই সুস্বাস্থ্য বজায় রেখে ওজন কমানো এবং তলপেট নির্মেদ করা সম্ভব। তাড়াহুড়ো করে ক্র্যাশ ডায়েট না করে বরং সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে ওজন কমানোর পরামর্শ দেন তিনি, যাতে স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি না হয়।
পেটের মেদ কমানোর চিরায়ত ব্যায়ামের পাশাপাশি পা ও কোমরের পেশি সবল করতে একটি অত্যন্ত সহজ ও কার্যকরী ব্যায়াম বাতলে দিয়েছেন এই পুষ্টিবিদ। এই ব্যায়ামটি নিয়মিত করলে যেমন নিতম্ব ও কোমরের পেশির আড়ষ্টতা দূর হয়, তেমনি হজমশক্তিও উন্নত হয়। মেদহীন পেট পাওয়ার এটিও একটি আবশ্যক শর্ত।
ব্যায়ামের নিয়ম: ১. প্রথমে মেঝের ওপর উপরুড় হয়ে শুতে হবে এবং দুই পা রাখতে হবে একটি বালিশের ওপর।
২. এরপর দুই হাত কনুইয়ে ভাঁজ করে হাতের তালু দুটি মেঝের ওপরে সমান্তরালভাবে রাখতে হবে।
৩. এবার নিতম্বের পেশি শক্ত করে টেনে ধরে দুই পা মেঝের সমান্তরালে ওপরে তুলতে হবে।
৪. ওই অবস্থানে থেকে ঊরুর অংশটিতে নিচ থেকে ওপরের দিকে হালকা চাপ দিতে হবে এবং মনে মনে ১০ পর্যন্ত গুনতে হবে।
৫. এভাবে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ বার এই ব্যায়ামটি অভ্যাস করতে হবে।
এই ব্যায়ামের পাশাপাশি নিয়মিত ক্রাঞ্চেস বা পেটের মেদ ঝরানোর অন্যান্য কসরত করলে খুব দ্রুত এবং স্থায়ীভাবে সুফল পাওয়া সম্ভব।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |