প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে চরম সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেনের শুরুতে রেকর্ড গড়ার পর পরবর্তীতে আউন্সপ্রতি দাম কমেছে মোটামুটিভাবে। মূলত চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য মার্কিন মূল্যস্ফীতির রিপোর্ট থেকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (Fed) সুদের হারসংক্রান্ত পরবর্তী পদক্ষেপের ধারণা পেতেই এমন কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন বাজারের লেনদেনকারীরা।
আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-এর বরাতে এই খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে বিশ্ব স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৮৫ ডলার ১৩ সেন্টে নেমে আসে। অথচ এর আগে দিনের শুরুতেই এই দাম গত ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠেছিল।
একইভাবে মার্কিন ফিউচার মার্কেটেও দরপতনের চিত্র দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য বিক্রীত স্বর্ণের ফিউচার দর ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৯ ডলার ৭০ সেন্টে কেনাবেচা হচ্ছে।
কেসিএম ট্রেডের (KCM Trade) প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বিশ্লেষণ করে বলেন:
"স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির হার যদি প্রত্যাশার চেয়ে কম আসে, তবে তা স্বর্ণের বাজার চাঙ্গা হওয়ার জন্য মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। এতে করে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার ফের বাড়ানোর শঙ্কা অনেকটাই কমবে এবং প্রকৃত সুদের হারের চাপ কিছুটা প্রশমিত হবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বাড়াতে স্বর্ণ কেনা এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা কিছুটা কমলে তেলের দাম ও মার্কিন ডলারের দরে পতন ঘটবে, যা স্বর্ণের বাজারের জন্য বড় ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করবে।
রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে একটি তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন যে তারা চুক্তির খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখার অপেক্ষায় আছেন। তবে বিশ্ববাজারে রাশিয়া থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ার আশঙ্কায় ইতোমধ্যে তেলের দর কমতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে, গত সপ্তাহে দেড় বছরের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে থাকা মার্কিন ডলারের দর সোমবারেও শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী ডলারে দর নির্ধারিত স্বর্ণ ডলার শক্ত হলে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য কেনা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, যা স্বর্ণের সার্বিক চাহিদায় নেতিবাচক চাপ ফেলে।
বিশ্ব অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীরা এখন মুখিয়ে আছেন বুধবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) রিপোর্টের দিকে। এছাড়া বৃহস্পতিবার প্রকাশ পাবে উৎপাদক মূল্যসূচক (PPI) ও খুচরা বিক্রির ডেটা। এসব ডেটা থেকেই স্পষ্ট হবে ইউএস ফেড সুদের হার বাড়াবে নাকি অপরিবর্তিত রাখবে।
সিএমইর (CME) ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজার লেনদেনকারীরা অক্টোবরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ১৯ শতাংশ এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তা বাড়ার সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ বলে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন।
স্বর্ণের বাজারে সাময়িক পতন হলেও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর ক্ষেত্রে অবশ্য চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে:
রুপা (Silver): স্পট মার্কেটে ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ ডলার ৯৫ সেন্টে পৌঁছেছে।
প্লাটিনাম (Platinum): ০.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭০১ ডলার ১৮ সেন্টে কেনাবেচা হচ্ছে।
প্যালাডিয়াম (Palladium): ১ শতাংশ দর বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৫৯ ডলার ৬২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |