প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
সন্তান লাভের প্রত্যাশায় আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাহায্য নেওয়া দম্পতির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বন্ধ্যত্ব দূরীকরণে বহুল প্রচলিত একটি পদ্ধতি হলো টেস্টটিউব বেবি বা আইভিএফ (In Vitro Fertilization-IVF)। এই পদ্ধতিতে ল্যাবরেটরিতে শরীরের বাইরে নারীর ডিম্বাণু ও পুরুষের শুক্রাণু নিষিক্ত করে ভ্রূণ তৈরি করে তা নারীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অভিনব পদ্ধতি ইসলামি শরিয়তে বৈধ কি না, তা নিয়ে প্রায়ই সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন জাগে।
ইসলামি আইন ও ফিকহ শাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, টেস্টটিউব বেবি বা আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তান নেওয়া সব ক্ষেত্রে বা সর্বাবস্থায় হারাম বা নিষিদ্ধ নয়।
সমসাময়িক ইসলামি ফিকহ কাউন্সিল ও ইসলামিক স্কলারদের অধিকাংশের মতে, এই পদ্ধতিতে সন্তান গ্রহণের ক্ষেত্রে যদি কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা হয়, তবে তা শর্তসাপেক্ষে বৈধ (জায়েজ) বলে গণ্য হবে। শর্তগুলো হলো:
নিজস্ব জননকোষ ব্যবহার: দম্পতির নিজস্ব বৈধ দাম্পত্য সম্পর্ক বলবৎ থাকা অবস্থায় কেবল স্বামী ও স্ত্রীর নিজস্ব শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ব্যবহার করতে হবে।
তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ: স্বামীর শুক্রাণু বা স্ত্রীর ডিম্বাণুর পরিবর্তে কোনো অবস্থাতেই তৃতীয় কোনো ব্যক্তির (Donor) শুক্রাণু, ডিম্বাণু বা ভ্রূণ ব্যবহার করা যাবে না। এটি কঠোরভাবে হারাম।
সারোগেসি নিষিদ্ধ: অন্য কোনো নারীর জরায়ুতে স্বামী-স্ত্রীর ভ্রূণ স্থাপন অর্থাৎ সারোগেসি (Surrogacy) পদ্ধতি ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও অবৈধ।
বৈবাহিক সম্পর্ক ও বংশপরিচয়: বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীর বৈধ সম্পর্ক থাকাকালীনই কেবল এই চিকিৎসা নেওয়া যাবে। তালাকপ্রাপ্তি কিংবা স্বামীর মৃত্যুর পর সংরক্ষিত ভ্রূণ ব্যবহার করে সন্তান নেওয়ার বিষয়ে শরিয়তে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। এ ধরনের জটিল পরিস্থিতিতে অবশ্যই কোনো বিজ্ঞ মুফতি বা ইসলামি চিন্তাবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ স্পষ্ট মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, টেস্টটিউব পদ্ধতিতে সন্তান জন্মদান ইসলামে সামগ্রিকভাবে নাজায়েজ নয়, তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হারাম বা শরিয়তবিরোধী বিষয় মিশ্রিত থাকা যাবে না।
এই পদ্ধতি অবলম্বনের সময় তিনি মূলত কয়েকটি বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন: ১. সতর হেফাজত: চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সময় চিকিৎসকদের কাছে অকারণে সতর উন্মুক্ত করা যাবে না। চিকিৎসাগত একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সতর রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। ২. বীর্য সংগ্রহ পদ্ধতি: ল্যাবে পরীক্ষার জন্য বা নিষিক্তকরণের উদ্দেশ্যে হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্য সংগ্রহ করা যাবে না। স্বাভাবিক ও শরিয়তসম্মত পন্থায় বীর্য সংগ্রহ করতে হবে। ৩. অন্যের জননকোষ বর্জন: স্বামী ও স্ত্রী ব্যতিত অন্য কোনো নর-নারীর শুক্রাণু বা ডিম্বাণু কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না।
সংক্ষেপে, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্তান লাভের এই চিকিৎসাপদ্ধতি তখনই শরিয়তসম্মত হবে, যখন এতে বংশমর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং শরিয়তের নির্ধারিত সীমারেখা ও পবিত্রতা বজায় রাখা হয়।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |