| বঙ্গাব্দ

সিনেমা না দেখে শুধু শব্দ শুনলেও কি গুনাহ হবে? ইসলাম কী বলে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 14-10-2026 ইং
  • 10791 বার পঠিত
সিনেমা না দেখে শুধু শব্দ শুনলেও কি গুনাহ হবে? ইসলাম কী বলে
ছবির ক্যাপশন: সিনেমা না দেখে শুধু শব্দ শুনলেও কি গুনাহ হবে

গৃহস্থালি কাজের মাঝে ইউটিউবে মুভির এক্সপ্লানেশন শোনা কি শরিয়তসম্মত? জেনে নিন আলেমদের মতামত

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

ঘরের নানাবিধ কাজকর্ম করার পাশাপাশি ইউটিউবে সিনেমা বা নাটকের 'মুভি এক্সপ্লানেশন' (Movie Explanation) শোনার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। অনেকে আগে সরাসরি পুরো সিনেমা দেখলেও, এখন সময়ের অভাবে বা কাজ করতে করতে কেবল গল্পের বিবরণ ও অডিও শুনে থাকেন। কিন্তু স্ক্রিনের দিকে না তাকিয়ে বা ভিডিও না দেখে কেবল এই অডিও শোনাই ইসলামের দৃষ্টিতে কতটা গ্রহণযোগ্য বা শরিয়তসম্মত—তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় ও প্রশ্ন রয়েছে।

ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমদের মতে, কেবল অডিও শোনার বিষয়টির বৈধতা সম্পূর্ণ নির্ভর করে কনটেন্টটিতে কী উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং তাতে কী কী উপাদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—তার ওপর।

ভিডিও না দেখলেই কি শোনা সম্পূর্ণ বৈধ?

অনেক সময় ধারণা করা হয়, চোখের গুনাহ বা দৃশ্যমান অংশ এড়িয়ে চললেই কান দিয়ে শোনা পুরোপুরি জায়েজ হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী, মুভির এক্সপ্লানেশনে যদি অশ্লীলতা, গালিগালাজ, ইসলামি বিশ্বাসের পরিপন্থী বক্তব্য কিংবা অনৈতিক বিনোদনের বর্ণনা থাকে, তবে ভিডিও না দেখলেও তা শোনা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

এ ক্ষেত্রে মূলত তিনটি মূল বিষয়ে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে:

১. ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বা বাদ্যযন্ত্র:

বিশেষ করে হরর (Horror) কিংবা থ্রিলার মুভির এক্সপ্লানেশনে রহস্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে উচ্চশব্দে আবহ সঙ্গীত বা বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হয়। ইসলামে গান-বাজনা ও মিউজিক শোনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সহিহ বুখারির ৫৫৯০ নম্বর হাদিসে বাদ্যযন্ত্রকে ঢালাওভাবে বৈধ মনে করার প্রবণতা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।

২. শিরক ও কুফরি বিশ্বাসের গল্প:

হরর সিনেমার গল্পে প্রায়শই প্রেতাত্মা, ডাইনি, জাদু কিংবা অতিপ্রাকৃতিক শক্তির এমন সব কাল্পনিক দৃশ্য আঁকা হয়, যা অনেক সময় তাওহিদ বা ইসলামি আকিদার মূল ভিত্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব অলৌকিক ভূতুড়ে গল্পকে বাস্তব বা সঠিক ধর্মীয় বিশ্বাস হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। গল্পে যদি শিরক ও কুফরি ধারণাকে সত্য হিসেবে তুলে ধরা হয়, তবে তা সাধারণ বিনোদন হিসেবেও শোনা বিপজ্জনক।

৩. অনর্থক বিষয়ে সময় অপচয়:

ইসলামে অনর্থক ও উদ্দেশ্যহীন কাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে সফল মুমিনদের গুণাবলি উল্লেখ করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:

সুরা আল-মুমিনুন (আয়াত: ৩):

$وَالَّذِينَ\ هُمْ\ عَنِ\ اللَّغْوِ\ مُعْرِضُونَ$

অর্থ: “আর যারা অনর্থক ও অহেতুক বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।”

মানসিক প্রভাব ও উত্তম বিকল্প

হরর বা ক্রাইম গল্পের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি মানুষের হৃদয়ে অযথা ভয়, মানসিক অস্থিরতা ও রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা ইবাদতে মনোযোগ কমিয়ে দেয়। যেসব কনটেন্ট মানুষের আকিদা বা মানসিক প্রশান্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, সচেতনভাবে তা এড়িয়ে চলাই শরিয়তের পরামর্শ।

উত্তম বিকল্প যা হতে পারে:

যেসব ভাই-বোন বা গৃহিণী ঘরের কাজ করার সময় অডিও শুনতে পছন্দ করেন, তারা ইউটিউবে অহেতুক মুভি এক্সপ্লানেশন না শুনে নবী-রাসুলদের জীবনী (সিরাত), সাহাবিদের গল্প, পবিত্র কুরআনের সহজ তাফসির কিংবা প্রয়োজনীয় শিক্ষামূলক আলোচনা ও পডকাস্ট শুনতে পারেন। এতে কাজের ক্লান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি অবসর সময়টিরও দ্বীনী ও নৈতিক সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency