প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেও অনেক সময় অসচেতনতার কারণে তা কাজীর খাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করা হয় না। পরবর্তীতে দাম্পত্য কলহ বা সম্পর্ক তিতা হয়ে স্বামী বিয়ের কথা অস্বীকার করলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন নারীরা। বিশেষ করে প্রাপ্য দেনমোহর, খোরপোশ (ভরণপোষণ) ও সন্তানের পিতৃত্ব বা উত্তরাধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা দেখা দেয়।
তবে বিয়ের রেজিস্ট্রি বা কাবিননামা না থাকলেই যে দাম্পত্য সম্পর্ক প্রমাণের সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়—বিষয়টি এমন নয়। ছবি, কাজী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে বিয়ের আইনি বৈধতা প্রতিষ্ঠার সুযোগ খোলা রয়েছে।
বাংলাদেশের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী প্রতিটি মুসলিম বিয়ে যথাসময়ে নিবন্ধন করা আইনি বাধ্যবাধকতা। নিবন্ধিত একটি কাবিননামা মূলত স্ত্রীর দেনমোহর, খোরপোশ ও পারিবারিক অধিকার আদায়ের প্রাথমিক ও শক্তিশালী লিখিত দলিল।
তবে মনে রাখা জরুরি, আইন অনুযায়ী বিয়ে রেজিস্ট্রি না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও—নিবন্ধন না করার কারণে কোনো বৈধ বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা অবৈধ হয়ে যায় না।
ধরা যাক, একজন দম্পতির বিয়ের পর সন্তান রয়েছে, কিন্তু কোনো নিবন্ধিত কাবিননামা নেই। পরবর্তীতে স্বামী যদি দেনমোহর না দিয়ে স্ত্রীকে বের করে দেয় ও বিয়ে অস্বীকার করে, তবে স্ত্রী হতাশ না হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।
আদালতে পারিবারিক অধিকার প্রমাণের জন্য যে বিষয়গুলো ভূমিকা রাখে: ১. বিয়ের ছবি ও ভিডিও: বিয়ের অনুষ্ঠানে তোলা ছবি বা ভিডিও ক্লিপ আদালতে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ (Relevant Evidence) হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। ২. কাজী ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য: বিয়ে পড়ানো কাজী এবং আকদের সময় উপস্থিত সাক্ষীদের (কমপক্ষে দুজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী) মৌখিক সাক্ষ্য আদালতে অত্যন্ত প্রভাবশালী। ৩. অন্যান্য পারিপার্শ্বিক প্রমাণ: সন্তানের জন্ম নিবন্ধন, সামাজিক চলাফেরা, কিংবা কোনো কাগজে স্ত্রীকে স্বামী কর্তৃক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রমাণাদি উপস্থাপন করা যেতে পারে।
তবে শুধু ছবিই যথেষ্ট নয়, ছবিগুলোর সত্যতা ও অন্যান্য সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করেই আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
স্বামী সম্পর্ক অস্বীকার করলে ভুক্তভোগী নারী নিজের ও তার সন্তানের আইনি অধিকার আদায়ে নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন:
পারিবারিক আদালতে মামলা: স্থানীয় সহকারী জজ বা পারিবারিক আদালতে (Family Court) দেনমোহর, খোরপোশ এবং সন্তানের রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়ে মামলা দায়ের করতে হবে।
প্রমাণ জমা ও আইনজীবী নির্বাচন: বিয়ের ছবি, বিয়ের দাওয়াতপত্র, কাজীর তথ্য এবং উপস্থিত স্বজনদের সাক্ষ্য হিসেবে প্রস্তুত রেখে একজন অভিজ্ঞ পারিবারিক আইন বিশেষজ্ঞ বা আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা: বিয়ের পরপরই কাবিননামার যথাযথ নিবন্ধন নিশ্চিত করা এবং নিবন্ধিত মূল কাবিননামা বা এর সত্যায়িত অনুলিপি নিজের কাছে সংরক্ষণ করা উচিত।
প্রমাণাদি সংরক্ষণ: কোনো কারণে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন মিস হয়ে গেলে বা বিলম্বিত হলে বিয়ের ছবি, ভিডিও, দাওয়াতপত্র ও সাক্ষীদের নাম-ঠিকানা যত্ন সহকারে ফাইলে গুছিয়ে রাখতে হবে।
সারসংক্ষেপ: দাম্পত্য সম্পর্কের সুরক্ষায় শুরুতেই বিয়ে রেজিস্ট্রি করা সবচেয়ে নিরাপদ। তবে তা না থাকলেও কাবিননামাহীন স্ত্রী কেবল ছবি, কাজী ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের জোরালো সাক্ষ্যের মাধ্যমে আদালতেও নিজের ও সন্তানের মৌলিক আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |