প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক বা ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত অশ্লীল, গান-বাজনা ও শরিয়তবিরোধী বিভিন্ন ভিডিও কনটেন্ট ভেসে ওঠে। প্রশ্ন উঠেছে—এসব হারাম বা অশ্লীল ভিডিওতে লাইক দেওয়া, কমেন্ট করা বা শেয়ার করার শরিয়ি বিধান কী? একইভাবে কোনো গান বা সিনেমাকে নিজের ‘প্রিয়’ বলা ব্যক্তির ঈমানের ওপর কী প্রভাব ফেলে?
যুক্তরাজ্যের টেটলি থেকে এক ব্যক্তির করা এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে সৌদি আরবের মদিনা মোনাওয়ারার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মুফতি মুহাম্মাদ রাশেদুল ইসলাম একটি বিশদ ইসলামি ফতোয়া প্রদান করেছেন।
ফতোয়ায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামে যেকোনো ধরনের হারাম, নিষিদ্ধ কিংবা অশ্লীল কাজের ওপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করা এবং সেটির প্রচার-প্রসারে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করা থেকে বিরত থাকা প্রতিটি মুসলিমের জন্য আবশ্যক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম অনুযায়ী কোনো অসৎ বা অশ্লীল ভিডিওতে সাধারণ একজন ব্যবহারকারী লাইক, শেয়ার বা প্রশংসাসূচক মন্তব্য করলে সেটির এনগেজমেন্ট বা প্রচার বহুগুণ বেড়ে যায়। এর ফলে:
কনটেন্ট নির্মাতা আরও বেশি অশ্লীলতা তৈরিতে উৎসাহিত হয়।
ভিউ বাড়ার কারণে নির্মাতা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পায়।
সমাজ ও মানুষের মধ্যে পাপকাজ ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনের সুরা আল-মায়িদের ২ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে:
“তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো; কিন্তু পাপ, গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে কখনো একে অপরকে সহযোগিতা কোরো না।” (সুরা আল-মায়িদাহ: ২)
এছাড়া সুরা আন-নূরের ১৯ নম্বর আয়াতেও মুমিনদের মাঝে অশ্লীলতার প্রসার কামনাকারীদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
কোনো ব্যক্তি যখন কোনো গান বা সিনেমাকে নিজের ‘প্রিয়’ বলে ঘোষণা করেন, তখন ফতোয়ায় তার মনস্তাত্ত্বিক ও ঈমানি অবস্থানকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে:
১. নফসের দুর্বলতা ও অনুশোচনা: কোনো ব্যক্তি যদি পাপাচারের প্রতি সাময়িক আকৃষ্ট হয়ে পড়েও মনে মনে সেটাকে ‘হারাম’ বা নিষিদ্ধ বলেই বিশ্বাস করেন এবং নিজের এই মানবিক দুর্বলতার জন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত থাকেন—তবে তা নফসের বা প্রবৃত্তির দুর্বলতা হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিকে লজ্জিত হয়ে আন্তরিক তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ২. হারামকে হালাল মনে করা (ঈমানের ঝুঁকি): কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি শরিয়তে অকাট্যভাবে নিষিদ্ধ কোনো বিষয়কে জেনেশুনে সরাসরি ‘হালাল’ মনে করেন অথবা এর নিষিদ্ধতাকে অস্বীকার বা তোয়াক্কা না করেন—তবে এমন মানসিকতা ও বিশ্বাস ঈমানের জন্য চরম মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ প্রসঙ্গে সুরা আন-নাহলের ১১৬ নম্বর আয়াতের আলোকেও সতর্ক করা হয়েছে, যেখানে আল্লাহর দেওয়া প্রমাণের বাইরে নিজেদের মনগড়াভাবে কোনো কিছুকে হালাল বা হারাম ঘোষণা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। একই সাথে সহিহ বুখারির (হাদিস নম্বর: ৫১৮৯) উদ্ধৃতি দিয়ে বাদ্যযন্ত্র ও অপসংস্কৃতিকে হালকাবোধ বা হালাল মনে করার বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ফতোয়ার সারসংক্ষেপ হলো—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো হারাম কাজ, নাচ-গান বা অশ্লীলতার অ্যালগরিদম বাড়াতে সহায়তা করা গুনাহের কাজে শরীক হওয়ার শামিল। তাই এ ধরনের কনটেন্ট স্কিপ করা বা এড়িয়ে চলাই ঈমানের তাগিদ।
তবে কোনো গান বা সিনেমাকে পছন্দ বা ভালো লাগার কথা বললেই ঢালাওভাবে কারও ঈমান চলে গেছে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না; বরং সে ক্ষেত্রে ব্যক্তির অন্তরের বিশ্বাস, কথার প্রকৃত অর্থ ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |