প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর ২০২৬ ঘোষণা করার সময় ঘনিয়ে আসছে। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনের ঐতিহাসিক প্যালাডিয়ামে উসমান দেম্বেলের উত্তরসূরি হিসেবে কার হাতে উঠতে যাচ্ছে ফুটবলের এই সোনালী ট্রফি—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনার শেষ নেই। লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর যুগের পর এবার নতুন প্রজন্মের তারকাদের লড়াইয়ে জমে উঠেছে এবারের ব্যালন ডি’অরের মঞ্চ।
নিউইয়র্ক টাইমস ও বিশিষ্ট ক্রীড়া পোর্টাল ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর বিশ্লেষণে এবারের ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় শীর্ষ পাঁচজন প্রধান দাবিদার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন ইউরোপ ও বিশ্ব ফুটবলের চার দেশের পাঁচ মহাতারকা। ১০০ জন সাংবাদিকের ভোট এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও দলীয় পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে যাওয়া এই লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা সেই পাঁচ তারকাকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন:
২০২৫-২৬ মৌসুমে গোলের বন্যা বয়ে দিয়ে ইউরোপের অন্যতম সেরা ফর্মে ছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের ৩৩ বছর বয়সি ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন।
পরিসংখ্যান: বায়ার্ন ও ইংল্যান্ডের জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচে তার মোট গোলসংখ্যা ৭৩টি। এর মধ্যে কেবল বায়ার্নের হয়ে বুন্দেসলিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে করেছেন ৫৬ গোল এবং ৮টি অ্যাসিস্ট।
সাফল্য ও বাধা: চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউটে ৬ গোল এবং জার্মান কাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিকসহ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো ও কোয়ার্টারে দারুণ ফর্মে ছিলেন তিনি। তবে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হার এবং বায়ার্নের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে পড়া তার বড় শিরোপা জয়ের পথে প্রধান বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও নতুন মৌসুমেও তার গোলক্ষুধা সমানভাবে বজায় রয়েছে।
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মধ্যে গোল ও অ্যাসিস্টের হাবিবে দারুণ চমক দেখিয়েছেন বায়ার্নের ফরাসি ফরোয়ার্ড মাইকেল অলিসে।
পরিসংখ্যান: ক্লাব ও দেশের হয়ে ৫৩ ম্যাচে ২০ গোলের পাশাপাশি ৩২টি দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট করেছেন এই ২৪ বছর বয়সি তারকা। বিশ্বকাপে এক আসরে সর্বোচ্চ ৭টি অ্যাসিস্টের নতুন রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।
মূল্যায়ন: ওপেন প্লে ও সেট পিস—উভয় ক্ষেত্রেই সুযোগ তৈরি এবং রক্ষণেও সহায়তা করার দারুণ দক্ষতা রয়েছে তার। তবে কেইনের মতো তার ক্ষেত্রেও বড় কোনো আন্তর্জাতিক বা ক্লাব ট্রফি অর্জনের ঘাটতি ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে সামান্য ব্যবধান তৈরি করতে পারে।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসা বার্সেলোনার স্প্যানিশ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল ব্যালন ডি’অরের অন্যতম প্রধান ফেভারিট।
পরিসংখ্যান: সর্বশেষ মৌসুমে ৩৮ ম্যাচে ২২ গোল এবং ১৫টি অ্যাসিস্ট করে নিজের অসাধারণ উন্নতির প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। চলতি মৌসুমেও বার্সেলোনার হয়ে ১১ ম্যাচে ৯ গোল ও ১০ অ্যাসিস্ট করে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন।
মূল্যায়ন: মৌসুমের শুরুতে ও শেষের দিকে কিছু ইনজুরি তার গতি কিছুটা বাধাগ্রস্ত করলেও মাঠে তার স্কিল, ড্রিবলিং ও ম্যাচ উইনিং ক্ষমতা তাকে অন্য উচ্চতায় রেখেছে। ভবিষ্যতের পাশাপাশি বর্তমানের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে তিনি শক্ত অবস্থানে আছেন।
বিশ্বকাপে আবারও নিজের গোলমেশিন রূপ দেখিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো গোল্ডেন বুট জেতা ফরাসি সেনসেশন কিলিয়ান এমবাপ্পে রয়েছেন তালিকার চারে।
পরিসংখ্যান: বিশ্বকাপে ২২ ম্যাচে ২২ গোল করার পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলিয়ে ৪২ ম্যাচে করেছেন ৪০ গোল।
মূল্যায়ন: ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের দিক থেকে প্রায় সবার চেয়ে এগিয়ে থাকলেও, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে বড় কোনো ক্লাব শিরোপা না পাওয়া এবং বিশ্বকাপে দলের চতুর্থ স্থানে শেষ করা তার ট্রফি জয়ের স্বপ্নে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নতুন কোচ জোসে মরিনিওর অধীনে নতুন মৌসুমেও তার গোল করার ধারা অব্যাহত রয়েছে।
মাঝমাঠের প্রাণভোমরা এবং ইনজুরি কাটিয়ে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করা স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি এ বছর ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এক বড় চমক।
সাফল্য: এসিএল (ACL) ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকলেও ২০২৬ সালের শুরু থেকে দারুণভাবে ছন্দে ফেরেন তিনি। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ঘরোয়া ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পর স্পেনের জার্সিতে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করে দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে রেখেছেন মূখ্য ভূমিকা। টুর্নামেন্ট শেষে তিনি জিতে নেন ‘গোল্ডেন বল’।
মূল্যায়ন: বর্তমানে বার্সেলোনাতে নাম লেখানো এই মিডফিল্ডারের মাঠে কম সময় কাটানো বা কম ম্যাচ খেলা তার ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে কিছুটা প্রভাব ফেললেও, বিশ্বকাপের ট্রফি এবং তার অনবদ্য প্লে-মেকিং তাকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |