| বঙ্গাব্দ

এশিয়ার শেয়ারবাজারে ধস: ট্রাম্পের শুল্কারোপ ও বিশ্ব বাণিজ্যে বিপর্যয়ের শঙ্কা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-04-2025 ইং
  • 3791909 বার পঠিত
এশিয়ার শেয়ারবাজারে ধস: ট্রাম্পের শুল্কারোপ ও বিশ্ব বাণিজ্যে বিপর্যয়ের শঙ্কা
ছবির ক্যাপশন: এশিয়ার শেয়ারবাজারে ধস: ট্রাম্পের শুল্কারোপ ও বিশ্ব বাণিজ্যে বিপর্যয়ের শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির ফলে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ধস: বিশ্ব বাণিজ্য ও সাপ্লাই চেনে বিপর্যয়ের শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা, যা ১৮৫টি দেশ-অঞ্চলের পণ্যকে প্রভাবিত করছে, বিশ্ব বাজারে এক নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এশিয়ার দেশগুলো, যেগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। বিশেষত চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশগুলোর শেয়ারবাজারে ব্যাপক পতন ঘটেছে এবং এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্য ও সাপ্লাই চেনে এক বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এশিয়ার শেয়ারবাজারে তীব্র পতন

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারে। শুল্ক আরোপের পর জাপানের নিক্কেই ইনডেক্সে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে গিয়ে এটি আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারও একইভাবে চরম পতনের মুখে পড়েছে। কোরিয়া কম্পোজিট স্টক প্রাইস ইনডেক্স (KOSPI) ৩৬ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট কমে গেছে। চীনের শেয়ারবাজারেও বড় ধরণের পতন ঘটেছে, এবং দেশটির মুদ্রা ইউয়ানের মূল্য সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনীতির অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে তীব্র অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, যেগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখে, তাদের শেয়ারবাজারে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর ফলে সারা বিশ্বের সাপ্লাই চেইনেও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, যেহেতু এসব দেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র।

বিশ্ব বাণিজ্য ও সাপ্লাই চেনে বিপর্যয়ের শঙ্কা

বিশ্ব বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বিশ্ব বাণিজ্য এবং সাপ্লাই চেইন অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। যদি দেশগুলো পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ শুরু করে, তাহলে এটি একটি বড় বাণিজ্য যুদ্ধের দিকে যেতে পারে, যা পুরো পৃথিবীজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে এশিয়া, যেখানে বেশিরভাগ উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং সরবরাহ শৃঙ্খলযুক্ত, সেখানে পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব সারা বিশ্বের বাজারে পড়বে।

বিশ্ব বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শুল্ক যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে, এটি পণ্য সরবরাহের লজিস্টিকস সিস্টেমকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং বিভিন্ন শিল্পে সংকট সৃষ্টি করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, টেকনোলজি পণ্য, অটোমোবাইল, এবং অন্যান্য ভোগ্য পণ্য যেমন ইলেকট্রনিক্সের দাম বেড়ে যেতে পারে, যা ভোক্তাদের ওপর এক বিরাট চাপ সৃষ্টি করবে।

অর্থনীতিবিদের মন্তব্য

অর্থনীতিবিদ টিম হারকোর্ট এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘‘এই বাণিজ্য যুদ্ধে কেউ জিতবে না। শুল্ক আরোপ করা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার মতো। এটি শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকেও ক্ষতি করবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এশিয়ার দেশগুলো নিশ্চয়ই বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে এবং তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্বিন্যাস করতে চেষ্টা করবে। বিশেষ করে, আসিয়ান দেশগুলোর সাথে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে।’’

হারকোর্টের মন্তব্যের ভিত্তিতে, আশা করা হচ্ছে যে, এই সংকটের মাঝেও কিছু দেশ নিজেদের জন্য নতুন বাজার খুঁজে পাবে, বিশেষত যারা বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প খোঁজা খুব সহজ হবে না, কারণ এটি এখনও পৃথিবীর বৃহত্তম অর্থনীতি এবং পৃথিবীজুড়ে এর বাজারের বিশাল প্রভাব রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যত

বিশ্ব বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘমেয়াদি হয়, তবে বিশ্ব বাণিজ্যের কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে, বিশেষ করে এশিয়ার বাজারে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল প্রভাব রয়েছে, কিন্তু শুল্ক বৃদ্ধির কারণে অন্যান্য দেশ নিজেদের জন্য নতুন বাণিজ্যিক পথ খুঁজতে শুরু করবে। তবে, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি বিশাল বাজারের বিকল্প খুঁজে পাওয়া সহজ হবে না।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) ইতোমধ্যেই অনেক দেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ প্রেরিত হয়েছে, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তাদের কার্যকারিতা সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, ডব্লিউটিও-এর আপিল বিভাগের নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো সমাধানের জন্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কাছে কোন প্রত্যাশা রাখতে পারছে না।

সামগ্রিক প্রভাব

এখন পর্যন্ত, এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বিশ্ব বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং এটি বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষত, এশিয়ার দেশগুলো, যেগুলো বিশ্বের উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাদের শেয়ারবাজার এবং মুদ্রার মান ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। তবে, কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, এশিয়া বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারবে এবং তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্গঠন করবে।

এই পরিস্থিতি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও উদ্বেগজনক হতে পারে, কারণ যদি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, তা বিশ্বের সব দেশের জন্য অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত একত্রিত হয়ে একটি স্থিতিশীল বাণিজ্য পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency