| বঙ্গাব্দ

নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, মেলেনি মুক্তার ডিএনএ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-10-2026 ইং
  • 28394 বার পঠিত
নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, মেলেনি মুক্তার ডিএনএ
ছবির ক্যাপশন: মেলেনি মুক্তার ডিএনএ

কক্সবাজার রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার ১০ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত, মেলেনি শিক্ষক মুক্তার খোঁজ

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে অবস্থিত ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ১০ জনের মরদেহের পরিচয় চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর কোনো নমুনার সঙ্গেই মিল না পাওয়ায় নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার (২৭) সন্ধান এখনো মেলেনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ।

ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্য রয়েছেন চারজন। তারা হলেন—ঢাকার শ্যামলী এলাকার বাসিন্দা ও গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই শিশুকন্যা রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।

অন্য পরিবারের নিহত ছয়জন হলেন—ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), তার শিশুসন্তান মোহাম্মদ ফাইজান নূর (৬) এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)।

তবে নিশ্চিত হওয়া এই ১০ জন নিহতের তালিকার মধ্যে সাভারের আশুলিয়ার ‘স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলে’র শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার মরদেহ নেই বলে জানিয়েছে সিআইডি। জানা গেছে, দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।

মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল আকুতি জানিয়ে জানান, আগুন লাগার ভয়াবহ মুহূর্তে তার স্ত্রী রিসোর্টের একটি কক্ষে আটকা পড়েছিলেন। মুক্তার সঙ্গে থাকা দুই বান্ধবী কোনোক্রমে প্রাণ নিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও মুক্তার আর কোনো সন্ধান মেলেনি। এর আগে তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, মুক্তার সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনের কল ট্র্যাকিং ও ডেটা বিশ্লেষণ চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাশে পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন তিনতলাবিশিষ্ট ওই রিসোর্টটিতে অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে ভেতর থেকে ১০ জনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ভয়াবহ এ ঘটনায় গুরুতর আহত সাতজনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শুরুতে নিখোঁজের তালিকায় ১১ জনের নাম প্রকাশ পাওয়ায় মোট হতাহতের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছিল।

অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ চিহ্নিতকরণ এবং এর দায় নির্ধারণে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। তবে কমিটি এখনো পর্যন্ত তাদের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অবহেলাজনিত কারণ উল্লেখ করে ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে উখিয়া থানা পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে রিসোর্টের মূল মালিক মোহাম্মদ তানভীর সুলতান মিয়াকে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া রিসোর্টের আরেক অংশীদার নেওয়াজ মোর্শেদও আত্মগোপনে আছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency