| বঙ্গাব্দ

রোজার আগেই সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-10-2026 ইং
  • 68665 বার পঠিত
রোজার আগেই সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব
ছবির ক্যাপশন: লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

রমজানের আগেই বাজারে নতুন উত্তাপ: ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব, খেজুরে শুল্ক ছাড়ের দাবি

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতার স্পষ্ট আভাস মিলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং দর বৃদ্ধি ও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যয় (ফ্রেইট কস্ট) আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে বোতলজাত ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি একলাফে ১৪ টাকা বাড়ানোর জোরালো প্রস্তাব দিয়েছেন ভোজ্যতেল মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে রমজানের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ খেজুরের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম সাধারণ মানুষের সহনীয় রাখতে বিদ্যমান উচ্চ শুল্কহার প্রত্যাহার এবং জরুরি করছাড়ের জোর দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারকেরা।

আসন্ন পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সামগ্রিক আমদানি পরিস্থিতি, পর্যাপ্ত মজুত, বাজার সরবরাহ এবং সম্ভাব্য মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অংশীজনদের নিয়ে এক বিশেষ পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ভোজ্যতেলের দাম একলাফে লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর ব্যবসায়ীদের এই প্রস্তাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ইতিবাচক সায় দেয়নি কিংবা চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। তবে রমজানে বাজারে খেজুরের জোগান ও দাম স্থিতিশীল রাখতে বিদ্যমান শুল্ক ছাড়ের বিষয়টিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে ফলপ্রসূ সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। সে সময় খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। তৎকালীন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বিশ্ববাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার যুক্তি তুলে ধরে সরকারের ওই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। তখন ব্যবসায়ীরা আরও বেশি দাম বাড়ানোর জোর দাবি জানালেও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশে লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবের বিপরীতে সরকার মাত্র ৫ টাকা সমন্বয় করেছিল। তৎকালীন সচিব তেলের দাম পুনরায় বাড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পরিস্থিতি পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। সেই বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রমজানের ছুতোয় নতুন করে একলাফে ১৪ টাকা বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন জানালেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে পর্যালোচনা বৈঠকে খেজুর আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে খেজুর আমদানির ওপর সব মিলিয়ে প্রায় ৫৫ শতাংশের মতো উচ্চ শুল্ক ও বিভিন্ন অপ্রত্যক্ষ করভার বহাল রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, শুল্কায়নের জন্য সরকারের নির্ধারিত ভিত্তিমূল্য মাত্রাতিরিক্ত বেশি হওয়া এবং আন্তর্জাতিক রুটে পরিবহন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার ফলে সাধারণ মানের খেজুর আমদানির সার্বিক খরচও এখন আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমদানিকারকদের প্রতিনিধিরা বৈঠকে আরও ব্যাখ্যা করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন মারাত্মক জটিল রূপ নিয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বিকল্প ও দীর্ঘতম পথ ঘুরে বাংলাদেশে আসতে হওয়ায় পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি স্থানীয় ব্যাংকগুলোতে আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা যদি দ্রুত নিরসন করা না হয়, তবে আসন্ন রমজানে বাজারে খেজুরের মারাত্মক কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির খেজুরের জাত, গুণগত মান এবং আন্তর্জাতিক ক্রয়মূল্যের মধ্যকার পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে একটি স্বচ্ছ, আধুনিক ও যৌক্তিক শুল্ক কাঠামো নির্ধারণের ওপর কঠোর তাগিদ দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, সৌদি আরব, মিসর, ইরাক কিংবা আলজেরিয়াসহ বিশ্বের প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি করা হয়। সাধারণ মানের খেজুরের সঙ্গে প্রিমিয়াম বা দামি মানের খেজুরের শুল্কায়নমূল্য একইভাবে বা সমহারে নির্ধারণ করা হলে বাজারে মারাত্মক বিভ্রান্তি, অনিয়ম ও জটিলতা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

আমদানিকারকেরা সরকারের কাছে দাবি জানান, নির্ধারিত ঢালাও শুল্কায়নমূল্যের পরিবর্তে চালানের প্রকৃত ইনভয়েস মূল্য এবং পণ্যের গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে শুল্ক আরোপ করা হোক। তাঁদের মতে, কম দামি ও সাধারণ মানের সাধারণ খেজুরে কৃত্রিমভাবে বেশি শুল্কায়নমূল্য চাপিয়ে দেওয়ায় সামগ্রিক আমদানি ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনই উচ্চ শুল্কের চাপে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে পুষ্টিকর এ ফলটি। একই সঙ্গে সার্বিকভাবে ফল আমদানির ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত নমনীয় ও ব্যবসাবান্ধব করব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান তাঁরা।

যদিও দেশে আমদানি শুল্ক কমানো বা বাড়ানোর একক আইনি এখতিয়ার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর), তবুও এ বিষয়ে সরকারের সব অর্থনৈতিক সংস্থা ও নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে পারস্পরিক দৃশ্যমান সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর বৈঠকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে খেজুর আমদানিতে সরকার ঘোষিত বিদ্যমান শুল্ক ছাড়ের সুবিধাগুলো যাতে দ্রুত আমদানিকারক পর্যায়ে কার্যকর হয়, সে বিষয়েও বিশদ আলোচনা করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আমদানিকারকদের উত্থাপিত যৌক্তিক সমস্যাগুলো নিরসনে এনবিআরের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারিভাবে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency