তাহসিফের মৃত্যু: দীপের বক্তব্যে অসংগতি, রহস্য ছড়াচ্ছে তুরাগ তীরে
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ধোঁয়াশা তত গভীর হচ্ছে। ওই দিন সন্ধ্যায় তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নেওয়া তাঁর বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া বক্তব্যে একাধিক অসংগতি পাওয়ায় ঘটনার মোড় নতুন দিকে ঘুরছে। গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা সংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে দুর্ঘটনা বা রহস্যজনক হিসেবে দেখা হলেও তাহসিফের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
দীপের বক্তব্যে অসংগতি ও পিবিআইয়ের তদন্ত
মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও নৌ পুলিশ তাহসিফের শেষ সঙ্গীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিভ্রান্তিকর তথ্য পেয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ও পিবিআইকে দেওয়া ভিন্ন তথ্য: প্রথমে দীপ দাবি করেছিলেন, উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ শেষে হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাঁরা আলাদা হয়ে যান এবং তাহসিফ নিজ পথে চলে যান। তবে পিবিআইয়ের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি দাবি করেন, রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় কথা বলার সময় কিছু লোক তাঁদের ধাওয়া করলে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন এবং তিনি নিজে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন।
পরিবারের অসন্তোষ ও যুক্তি: তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম ধাওয়ার মুখে নদে ঝাঁপ দেওয়ার এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, তাহসিফ একজন দক্ষ পাইলট ও পেশাদার সাঁতারু ছিলেন; ফলে সাঁতার জানা মানুষ সামান্য ধাওয়ায় ডুবে যাবেন—এমন তথ্য মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়।
মোটরসাইকেল উদ্ধার ও রহস্য: ঘটনাস্থলসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা তাহসিফের কি না তা খতিয়ে দেখছে পিবিআই।
এক নজরে তাহসিফ সাউরির মৃত্যু মামলা
নিহত ব্যক্তি: কে এম তাহসিফ সাউরি (২৮), সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী
মরদেহ উদ্ধারের স্থান ও সময়: তুরাগ নদ (রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা), ২৮ অক্টোবর বিকেল
প্রধান সন্দেহভাজন/সঙ্গী: আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ (পিবিআই হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদাধীন)
তদন্তকারী সংস্থা: পিবিআই, নৌ পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)
হত্যাকাণ্ড ধরে নিয়ে তদন্তের আশ্বাস
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তাহসিফের মৃত্যুর পুরো ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়ে নিরপেক্ষ ও গভীরভাবে তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দীপের অসংগতিপূর্ণ কথাবার্তা এবং নিখোঁজ হওয়ার সময়ের পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলোর সুনির্দিষ্ট জবাব না পাওয়া পর্যন্ত তাহসিফের এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তোলপাড় অব্যাহত থাকছে।