| বঙ্গাব্দ

পা দিয়ে লিখে এসএসসির পর এবার এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেলেন রাব্বি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 31-10-2026 ইং
  • 72100 বার পঠিত
পা দিয়ে লিখে এসএসসির পর এবার এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেলেন রাব্বি
ছবির ক্যাপশন: পা দিয়ে লিখে এইচ এসসিতেও জিপিএ-৫ পেলেন রাব্বি

দুই হাত হারিয়েও পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলো অদম্য মেধাবী রফিকুল ইসলাম রাব্বি

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিজের দুটি হাত চিরতরে হারিয়ে ফেলার পরও হার মানেননি জীবনযুদ্ধে। ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর অধ্যাবসায়ের জোরে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাব্বি। এর আগে এসএসসি পরীক্ষাতেও পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ অর্জন করেছিলেন তিনি। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য পুরো দেশবাসীর জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল সূত্রে এই অনুপ্রেরণামূলক তথ্য জানা গেছে।

মেধাবী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাব্বি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার বজলুর রহমানের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। রাব্বির এই সাফল্যে তার পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা।

দুর্ঘটনা ও অদম্য লড়াইয়ের গল্প স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দরিদ্র পরিবারের সন্তান রাব্বি ছোটবেলায় একদম সুস্থ-স্বাভাবিক ও অন্য দশটি শিশুর মতোই ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় তার জীবন পাল্টে যায়। ওই বছর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভাটিয়ারী ফুটওভার ব্রিজের ওপর ছিঁড়ে পড়ে থাকা একটি জীবন্ত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে তার দুটি হাত গুরুতরভাবে পুড়ে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ ও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকরা তার দুটি হাতই কেটে ফেলতে বাধ্য হন।

দুর্ঘটনার পর চারপাশের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে রাব্বির পক্ষে হয়তো আর কখনো পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। তবে নিজের অদম্য জেদের জোরে শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতার কাছে কখনোই হার মানেননি রাব্বি। পড়াশোনা সচল রাখতে তিনি প্রথমে মুখ দিয়ে লেখার অদ্ভুত এক কৌশল রপ্ত করেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মুখ দিয়ে এভাবেই লিখে জেএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল সে। পরবর্তীতে মুখের লেখার পরিবর্তে পা দিয়ে লেখার নিবিড় চর্চা শুরু করে রাব্বি। সেই পা দিয়েই সে ২০২৪ সালে ভাটিয়ারীর হাজী তোবারক আলী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে এবং এবার এইচএসসি পরীক্ষায়ও কাঙ্ক্ষিত জিপিএ-৫ অর্জন করল। উল্লেখযোগ্য যে, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় রাব্বির সঙ্গেই তার বোন রোকাইয়া আক্তার রাওজাও ভাটিয়ারী বিজয় স্মরণী কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগ থেকে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে।

ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া ছেলের এমন ধারাবাহিক ও ঐতিহাসিক সফলতায় অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত বাবা বজলুর রহমান বলেন, “দুর্ঘটনার পর যখন আমার ছেলের দুটি হাত কেটে ফেলতে হয়, তখন ভেবেছিলাম সে আর কোনো দিন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পড়তে পারবে না। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হয়েছেন। আজ সে নিজের অদম্য চেষ্টায় এতদূর এসেছে। সে যেন জীবনে আরও বড় হতে পারে, সবার কাছে আমি ছেলের জন্য দোয়া চাই।”

নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে রাব্বি সংবাদমাধ্যমকে জানায়, “আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ রহমতে এসএসসির ধারাবাহিকতায় এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পেরেছি। এই সাফল্যের পেছনে আমার মা-বাবা, শিক্ষক এবং শুভানুধ্যায়ীদের অবদান সবচেয়ে বেশি। আমার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের। ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে পরিবারের অভাব দূর করার পাশাপাশি দেশের সেবা করতে চাই।”

ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আনোয়ার রাব্বির এই অর্জনে গর্ব প্রকাশ করে বলেন, “রাব্বির চেষ্টার কোনো তুলনা হয় না। শারীরিকভাবে হাত না থাকলেও সে কখনোই নিজেকে প্রতিবন্ধী ভাবেনি। অন্যরা যা পারে, সেও যে তা পারে—এই আত্মবিশ্বাসই তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তার এই সাফল্যে আজ ভাটিয়ারীর প্রতিটি মানুষ গর্বিত। সে আগামী দিনের তরুণদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।”

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency