সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় মিনিবাসের নিচে চাপা পড়ে আইআইইউসি ছাত্রী নিহত, মহাসড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের
প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় দুটি লরির বেপরোয়া প্রতিযোগিতার কবলে পড়ে লরির ধাক্কায় উল্টে যাওয়া একটি মিনিবাসের নিচে চাপা পড়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) এক মেধাবী ছাত্রী নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের এক সহপাঠীসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। সহপাঠী মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার এলাক জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের ঠিক বিপরীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত (২০)। তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে দুর্ঘটনায় আহত অপর শিক্ষার্থীসহ অন্য দুজনের নাম ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি হাইওয়ে পুলিশ।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও সিসিটিভি ফুটেজের দৃশ্য
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ক্লাস করার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় গেটের বিপরীতে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে একটি লোকাল বাসে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছিলেন ছাত্রী মাইশা মুশফিরাত ও তাঁর এক সহপাঠী।
ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুটি ভারী লরি পরস্পরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেপরোয়া গতিতে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় ওভারটেক করার একপর্যায়ে একটি লরি সড়কের পাশে থেমে থাকা বা ধীরগতির ৮ নম্বর রুটের একটি মিনিবাসকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার অভিঘাতে বাসটি কাত হয়ে পাশের ফুটপাত বা যাত্রীদের ওপর উল্টে পড়ে। এ সময় বাসের নিচে সরাসরি চাপা পড়ে মারাত্মক জখম হন ছাত্রী মাইশা। পরে স্থানীয় লোকজন ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাইশাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ ও আন্দোলন
সহপাঠীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শত শত শিক্ষার্থী ফুঁসে ওঠেন। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন এবং আইআইইউসির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র শাহ নেওয়াজ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার এই ব্যস্ত মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণে প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে। এই এলাকায় একটি পদচারী-সেতু (ওভারপাস) নির্মাণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সহপাঠী মাইশার মৃত্যুর বিচার এবং অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় গেটের সামনে পদচারী-সেতু নির্মাণের সুনির্দিষ্ট দাবিতেই তাঁরা বাধ্য হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। শিক্ষার্থীদের এই দীর্ঘ অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সকালে বিশ্ববিদ্যালয় গেট এলাকায় বাস থেকে নামার বা বাসের জন্য দাঁড়ানোর মুহূর্তেই দ্রুতগতির লরির ধাক্কায় মিনিবাস উল্টে ওই ছাত্রীর ওপর পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ঘাতক লরি দুটিকে আটক করেন। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জব্দ করা লরি দুটি এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত মিনিবাসটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
সার্জেন্ট আরও জানান, রাস্তা অবরোধ করে রাখা বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করায় বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।