আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা ঘুস চাওয়ার অভিযোগের তদন্ত চলার মধ্যেই তাঁর দেশত্যাগ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর তিনি দেশ ছেড়েছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে তাঁর বিদেশযাত্রায় কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। অন্যদিকে, নিজের বিদেশযাত্রা প্রসঙ্গে সাইমুম বলেছেন, বিমানবন্দরে কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ইতালি যাওয়ার বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেননি তিনি।
সাইমুম রেজা তালুকদার দেশ ছেড়েছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, তাঁর বিদেশযাত্রার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না।
এ কারণে তিনি কোথায় যাবেন, সে বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষের কিছু করার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সাইমুম জানান, বিমানবন্দরে তাঁকে কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এরপর ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন করা হলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘কিছুই জিজ্ঞেস করে নাই। এসব নিউজ আর করার দরকার নাই ভাই, আমার মেজাজ গরম।’
ইতালি যাওয়ার গুঞ্জন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কে বলছে ইতালি চলে গেছি? আমার এসব নিয়া কথা বলার ইচ্ছা নাই।’
সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা ঘুস চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থয়ের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর পরিবারের কাছে এই অর্থ দাবি করা হয়েছিল।
বিষয়টি তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নজরে এলে সাইমুমকে ওই মামলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে তখন ট্রাইব্যুনালের অন্য দায়িত্বে বহাল ছিলেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে গত ৯ মার্চ চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বরাবর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন সাইমুম। আমিনুল ইসলাম আবেদনটি অনুমোদন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠান। পরে আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের আদেশে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয় এবং তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সাইমুমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।
ঘুস চাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগটির সত্যতা পাওয়া গেছে বলে কমিটির তথ্য রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ঘুস দেওয়া ও নেওয়া—দুটিই অপরাধ। যারা অর্থ দিয়ে থাকবেন, তাঁদেরও দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাইমুমের বিরুদ্ধে ঘুস চাওয়ার অভিযোগসহ পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে গত ১০ মার্চ পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির প্রধান করা হয় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামকে। অভিযোগগুলোর তথ্য যাচাই ও অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এই কমিটিকে।
গত ১১ মার্চ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে আট মাস পার হলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদন দিতে দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আমিনুল ইসলাম জানান, কমিটির একজন সদস্য দীর্ঘদিন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। তিনি কিছু সময় দেশের বাইরেও ছিলেন। এ ছাড়া কমিটির আরেক প্রসিকিউটর তাঁর মায়ের মৃত্যুর কারণে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।
তিনি আরও জানান, সাবেক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে না পারলেও যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।
সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা ঘুস চাওয়ার অভিযোগ এবং তাঁর বিদেশযাত্রা নিয়ে আলোচনা চললেও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। আট মাস ধরে চলা অনুসন্ধানের প্রতিবেদন কবে জমা পড়বে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে ।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |