শীতের শুরুতে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে অনেকের ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে পড়ে। ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় হারিয়ে যেতে পারে কোমলতা ও উজ্জ্বলতা। এ সময় ত্বকের যত্নে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া উপটানও ব্যবহার করতে পারেন।
শীতের শুরুতেই নানা উৎসব ও অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। এসব উপলক্ষে পোশাক, চুলের সাজ ও অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও ত্বকের যত্ন নেওয়া জরুরি। রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি সাধারণ উপকরণ দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় ঘরোয়া উপটান।
বেসন, হলুদ, চন্দন, কমলার খোসা, ওটমিল ও চালের গুঁড়োর মতো উপাদান দিয়ে তৈরি এসব মিশ্রণ ফেস মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে ত্বকের ধরন বুঝে উপাদান নির্বাচন করা এবং ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, ঘরেই তৈরি করা যায় এমন চার ধরনের উপটান।
ত্বকের পরিচর্যায় বেসন ও হলুদের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। এর সঙ্গে চন্দন গুঁড়ো ও দুধ মিশিয়ে তৈরি করতে পারেন একটি সহজ উপটান।
উপকরণ:
বেসন ২ টেবিল চামচ
চন্দন গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ
হলুদ এক চিমটি
দুধ ১-২ টেবিল চামচ
প্রয়োজন অনুযায়ী গোলাপজল
ব্যবহারের নিয়ম:
সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এরপর চোখের চারপাশ এড়িয়ে পরিষ্কার ত্বকে পাতলা করে লাগান। প্রায় ১০ মিনিট পর পানি দিয়ে আলতোভাবে ধুয়ে ফেলুন। শেষে নরম তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
কমলার খোসার গুঁড়ো, ওটমিল ও চন্দন দিয়ে তৈরি করা যায় আরেক ধরনের ঘরোয়া ফেস প্যাক।
উপকরণ:
কমলার খোসার গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ
ওটমিল পাউডার ১ টেবিল চামচ
চন্দন গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ
গুঁড়ো দুধ ১ টেবিল চামচ
মধু ১ টেবিল চামচ
প্রয়োজন অনুযায়ী গোলাপজল
ব্যবহারের নিয়ম:
সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। মুখে আলতো করে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর কোনো ধরনের ঘষাঘষি না করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
মুলতানি মাটি ও নিমের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি করা যায় আরেকটি ঘরোয়া ফেস প্যাক। তবে শুষ্ক ত্বকে মুলতানি মাটি ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
উপকরণ:
মুলতানি মাটি ১ টেবিল চামচ
হলুদ গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ
চন্দন গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ
নিম গুঁড়ো ১ চা চামচ
গোলাপজল ১ টেবিল চামচ
দুধ ১ টেবিল চামচ
ব্যবহারের নিয়ম:
সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এরপর মুখে পাতলা স্তর লাগিয়ে প্রায় ১০ মিনিট রাখুন। প্যাকটি পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক টানটান বা শুষ্ক মনে হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
চালের গুঁড়ো, বেসন ও চন্দন দিয়ে তৈরি করা যায় চতুর্থ উপটানটি।
উপকরণ:
চালের গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ
বেসন ১ টেবিল চামচ
চন্দন গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ
হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ
তিলের তেল কয়েক ফোঁটা
প্রয়োজন অনুযায়ী গোলাপজল
ব্যবহারের নিয়ম:
একটি পাত্রে সব শুকনো উপকরণ মিশিয়ে নিন। এরপর কয়েক ফোঁটা তিলের তেল ও প্রয়োজন অনুযায়ী গোলাপজল দিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। পরিষ্কার ত্বকে আলতো করে লাগিয়ে প্রায় ১০ মিনিট রাখুন। পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকে ঘষাঘষি করবেন না।
ঘরোয়া উপাদান প্রাকৃতিক হলেও সব উপাদান সবার ত্বকের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। তাই মুখে ব্যবহারের আগে হাতের ভেতরের অংশে বা কানের পাশে অল্প পরিমাণ লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করুন।
ত্বকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি, লালচে ভাব বা অস্বস্তি দেখা দিলে ব্যবহার করবেন না। সংবেদনশীল, অ্যালার্জিপ্রবণ বা ক্ষতযুক্ত ত্বকে এসব উপটান ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
এ ছাড়া উপটান ব্যবহারের পর ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগান। শীতের সময় ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।
উৎসবের আগে ত্বকের যত্ন নিতে ঘরোয়া উপটান ব্যবহার করতে পারেন, তবে ত্বকের সুস্থতা ও আরামকে সবার আগে গুরুত্ব দিন।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |