নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে শর্তসাপেক্ষে লেবানন সরকারের সাথে আলোচনায় প্রস্তুত হিজবুল্লাহ। ৯ এপ্রিল, বুধবার, গোষ্ঠীটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ লেবানন সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তবে তাদের শর্ত রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের পাঁচটি পয়েন্ট থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামলা বন্ধ করার বিষয়টি আলোচনা শুরুর আগে গোষ্ঠীটি সরাসরি দাবি করেছে। এই আলোচনার বিষয়টি লেবাননের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে একটি নতুন মোড় নিয়ে আসতে পারে।
হিজবুল্লাহ তাদের শর্ত হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের পাঁচটি পয়েন্ট থেকে সমস্ত ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। গোষ্ঠীটি জানায়, ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহারের পরই তারা শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত। এর পাশাপাশি, হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে, সমস্ত ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে। এই শর্তগুলো বাস্তবায়িত হলে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ করে তোলা সম্ভব হবে বলে গোষ্ঠীটির ধারণা।
২০২৪ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর হিজবুল্লাহর জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে। সংঘাতে হাজার হাজার হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং গোষ্ঠীটির অস্ত্রাগার ও ক্ষেপণাস্ত্রের বেশিরভাগ মজুদ ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ধ্বংসযজ্ঞের কারণে গোষ্ঠীটি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তাদের যুদ্ধক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে, হিজবুল্লাহকে এখন শান্তিপূর্ণ সমাধান বা নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি ভাবতে হচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ কৌশলগুলোর অংশ হতে পারে।
হিজবুল্লাহর উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে। এটি লেবাননের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গোষ্ঠীটি মনে করে, এই আলোচনার মাধ্যমে দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা সম্ভব এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন একটি কৌশল তৈরি করা যাবে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনও এই আলোচনায় আগ্রহী এবং তিনি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তার রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আউন হিজবুল্লাহর সঙ্গে আলোচনা শুরুর বিষয়ে প্রস্তুত। এর মাধ্যমে লেবাননের স্থিতিশীলতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। প্রেসিডেন্ট আউনের পক্ষ থেকে এই সাড়া, লেবাননের সরকারের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আগ্রহের প্রকাশ এবং গোষ্ঠীটির সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েল ২০২৪ সালের যুদ্ধের পর দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের স্থলসেনার বড় অংশ প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। তবে, ফেব্রুয়ারিতে, ইসরায়েল পাঁচটি পাহাড়ের চূড়া দখলে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানিয়ে দেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি যদি অনুকূল থাকে, তবেই তারা ওই জায়গাগুলো লেবাননের সেনাদের কাছে ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, ইসরায়েল আরও কয়েকটি কৌশলগত অবস্থান অর্জনের চেষ্টা করছে যা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে। তবে, এটি লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার কারণও হতে পারে।
হিজবুল্লাহ ও লেবানন সরকারের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা নির্ভর করবে ইসরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং শর্তাবলী পূরণের উপর। দক্ষিণ লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। এর পাশাপাশি, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া শর্তগুলোর বাস্তবায়ন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |