| বঙ্গাব্দ

অ্যাপল ভারতের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন পাঠাচ্ছে ট্রাম্পের শুল্ক এড়াতে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-04-2025 ইং
  • 4693410 বার পঠিত
অ্যাপল ভারতের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন পাঠাচ্ছে ট্রাম্পের শুল্ক এড়াতে
ছবির ক্যাপশন: iPhone News 2025

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের শুল্ক এড়াতে ভারতে উৎপাদিত আইফোন উড়ছে কার্গো ফ্লাইটে

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি জগতে। শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই অ্যাপল ভারতে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ আইফোন মার্কিন বাজারে পাঠানো শুরু করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতি ঘিরে এই পদক্ষেপ প্রযুক্তি খাতে এক নতুন মোড় সৃষ্টি করেছে।

ভারত থেকে বিপুল পরিমাণে আইফোন রপ্তানি

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, গত মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মেট্রিক টন আইফোন (প্রায় ১৫ লাখ ইউনিট) ভারতের চেন্নাইয়ে অবস্থিত ফক্সকন কারখানা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে মার্কিন বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা।

‘গ্রিন করিডোর’ ও দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স

চেন্নাই বিমানবন্দরে অ্যাপল একটি ‘গ্রিন করিডোর’ চালু করেছে, যার ফলে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সময় ৩০ ঘণ্টা থেকে কমে মাত্র ৬ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা হয়েছে। এই পদক্ষেপ অ্যাপলের রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে।

চীন থেকে পণ্যে ১২৫% শুল্ক, বিকল্প হিসেবে ভারত

চীনে আইফোন অ্যাসেম্বল হলেও যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। তুলনায়, ভারতীয় পণ্যে শুল্ক মাত্র ১০ শতাংশ। ফলে অ্যাপলের জন্য ভারত হয়ে উঠেছে একটি কৌশলগত বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র।

দাম বাড়ার আশঙ্কা

ইউবিএস ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি নতুন শুল্ক কার্যকর হয় এবং অ্যাপল তা গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেয়, তাহলে ২৫৬ জিবি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স-এর দাম ১,১৯৯ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ২,০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এটি প্রায় ৬০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি।

ভারতে উৎপাদন ২০% বাড়ানোর পরিকল্পনা

রয়টার্স জানায়, অ্যাপল বর্তমানে ভারতীয় কারখানায় উৎপাদন ২০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। চেন্নাইয়ের বৃহত্তম ফক্সকন কারখানায় কর্মী সংখ্যা বাড়ানো ও অতিরিক্ত শিফটে কাজ চালানোর মাধ্যমে এই লক্ষ্য পূরণে কাজ চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন হবে ব্যয়বহুল

ওয়েডবুশ সিকিউরিটিজ-এর বিশ্লেষক ড্যান আইভসের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন তৈরি করতে হলে প্রতিটি ইউনিটের দাম বেড়ে ৩,৫০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। কারণ দেশটিতে শ্রম খরচ, অবকাঠামো ও সরবরাহ চেইনের ব্যয় অনেক বেশি। ১০ শতাংশ উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের জন্যই প্রয়োজন অন্তত ৩০ বিলিয়ন ডলার এবং তিন বছর সময়।

ট্রাম্পের বক্তব্য বনাম বাস্তবতা

ট্রাম্প তার “লিবারেশন ডে” ভাষণে বলেছেন, তার নীতিতে মার্কিন কারখানায় উৎপাদন ও চাকরি বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নীতির বাস্তবিক প্রভাব হলো ভোক্তাদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ। অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের বর্তমান কাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency