চলতি বছরের প্রথম বিদেশ সফরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিনটি দেশ সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চলতি বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক সফরে আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ সফরে যাচ্ছেন। এই সফরকে কৌশলগত ও কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ১৪-১৫ এপ্রিল ভিয়েতনাম সফর করবেন। এরপর তিনি ১৫-১৮ এপ্রিল মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়া সফরে যাবেন। এই তিনটি দেশই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে শুল্ক হ্রাসসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক আলোচনায় ব্যস্ত রয়েছে। তবে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান টানাপোড়েনের কারণে বেইজিং এই আলোচনা থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছে। ফলে, এই সফরকে চীনের এক ধরনের পাল্টা কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই সফর চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI) কে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন গতি আনবে। বিশেষ করে কম্বোডিয়া (৪৯%), ভিয়েতনাম (৪৬%) এবং মালয়েশিয়া (২৪%)—এই তিন দেশের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরশীল হলেও, চীনের বিনিয়োগ ও অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর ভূমিকা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
চীন আশা করছে, এই সফরের মাধ্যমে দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি স্থানান্তর, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে ভিয়েতনামের সঙ্গে চীনের ঐতিহাসিক সীমান্ত ও সামুদ্রিক বিরোধ থাকার পরও সম্প্রতি উভয় দেশ সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে মনোযোগী হয়েছে।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট শির এই সফর ‘বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও অভিন্ন উন্নয়নের’ বার্তা নিয়ে যাচ্ছে। সফরকালে তিনি প্রতিটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মহলে এই সফর নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি চীনের একটি ‘চাপ মোকাবেলা কৌশল’, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বলয় থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে কিছুটা সরিয়ে এনে বেইজিং-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ করতে চায়। আবার অনেকে এটিকে একটি স্বাভাবিক আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন।
যাই হোক, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এই সফর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সফরের ফলাফল এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কেমন হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |