ঢাকা, ৯ মে ২০২৫ – ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন—আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে দ্রুত ও কঠোর সিদ্ধান্ত না এলে, আবারও দেশজুড়ে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শাহবাগে চলমান ‘শাহবাগ ব্লকেড’ কর্মসূচির মধ্যেই এই হুঁশিয়ারি দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, "এই অবস্থান কর্মসূচি চলতেই থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত দেশের শত্রু, গণতন্ত্রবিরোধী, নারী ও মানবতাবিরোধী, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়। এখন সময় এসেছে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশের সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে একত্রিত হওয়ার।"
তিনি আরও যোগ করেন, “ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইতিমধ্যেই ব্লকেড কর্মসূচি চালু হয়েছে। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে আবারও সমগ্র বাংলাদেশ একযোগে রাজধানী অভিমুখে যাত্রা করবে—‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে।”
২০২৪ সালের মার্চে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ডাকা ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করে। সেসময় রাজধানীমুখী লাখো মানুষের পদযাত্রা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান ঘেরাওয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের শাসনব্যবস্থা চূড়ান্ত সংকটে পড়ে। সে আন্দোলনের ফলেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়, যেখানে নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই প্রেক্ষাপটেই বর্তমান হুঁশিয়ারিকে অনেক বিশ্লেষক নতুন উত্তাপের সূচক হিসেবে দেখছেন।
গত ৮ মে রাত থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও স্লোগানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি জানান। রাত পেরিয়ে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে। বিকেল থেকে শাহবাগ মোড় পরিণত হয় আওয়ামী লীগবিরোধী স্লোগানে মুখর এক প্রতিবাদমঞ্চে। সেখানে ‘শাহবাগ ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কয়েক শতাধিক রাজনৈতিক কর্মী অবস্থান নেন।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, এই আন্দোলন শুধু এনসিপি’র নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার পক্ষে অবস্থান নেওয়া সকল সাধারণ জনগণের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের আন্দোলন আবারও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যখন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে, তখন আবারও কেন্দ্রীয় শহর ঢাকা অভিমুখে গণমিছিলের হুমকি সরকারের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |