| বঙ্গাব্দ

বেগম খালেদা জিয়া পাচ্ছেন ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা ২০২৬ | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-03-2026 ইং
  • 1899971 বার পঠিত
বেগম খালেদা জিয়া পাচ্ছেন ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা ২০২৬ | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: বেগম খালেদা জিয়া

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬: 'গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী' সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশের রাজনীতি ও নারী নেতৃত্বের ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আপসহীন সংগ্রাম এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অদম্য নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত করা হচ্ছে।

পুরস্কার প্রদান ও আয়োজনের বিস্তারিত

আগামী রোববার (৮ মার্চ, ২০২৬) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠায় তাঁর অসামান্য অবদান এবং দীর্ঘ কারাভোগ ও প্রতিকূলতার মাঝেও আদর্শে অটল থাকার বিষয়টি এই পুরস্কারের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও পাঁচটি বিশেষ ক্যাটাগরিতে আরও পাঁচজন অদম্য নারীকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা হলেন:

  • অর্থনৈতিক সাফল্য: নুরুন নাহার আক্তার।

  • শিক্ষা ও চাকুরিক্ষেত্র: মোছা. ববিতা খাতুন।

  • সফল জননী: নুরবানু কবীর।

  • বিজয়িনী (নির্যাতন জয়ী): মোছা. শমলা বেগম।

  • সমাজ উন্নয়ন: মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: বাংলাদেশের রাজনীতি ও নারী নেতৃত্বের বিবর্তন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে ভাষা আন্দোলনের সময় থেকেই এ দেশের নারীরা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৫২ সালে ইডেন কলেজের ছাত্রীদের মিছিলে অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ত্যাগ ও বীরত্বগাথা বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তন এবং ১৯৮০-এর দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ‘আপসহীন’ নেত্রী হিসেবে আবির্ভাব বাংলাদেশকে সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে আনে। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এক নতুন সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের এই নারী দিবসে বেগম খালেদা জিয়াকে এই সম্মাননা প্রদান মূলত গত সাত দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামের এক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বক্তা ও বিশিষ্টজনদের আলোচনা

অনুষ্ঠান উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, "বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং তিনি প্রতিকূল পরিবেশে একজন নারীর ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক।" রাষ্ট্র সংস্কারের এই সময়ে তাঁর মতো ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা জানানো গণতন্ত্রের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতাকে আরও দৃঢ় করবে।

এদিকে, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিয়েও অনুষ্ঠানে আলোচনা হবে। বিশেষ করে সাধারণ নারীদের সচেতন করতে ডা. তাসনিম জারার মতো চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হচ্ছে।

উপসংহার

১৯৫০ সালের সেই ধূসর সময় থেকে ২০২৫-২৬ সালের আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ—প্রতিটি বাঁকেই নারীরা ছিল অগ্রভাগে। বেগম খালেদা জিয়াকে দেওয়া এই সম্মাননা দেশের কোটি নারীর জন্য এক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে, যারা শত বাধা পেরিয়ে নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।


সূত্র: ১. মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার (মার্চ ২০২৬)।

২. জাতীয় আর্কাইভস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নারী আন্দোলনের ইতিহাস (১৯৫২-২০২৪)।

৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন ডেস্ক ও আন্তর্জাতিক নারী দিবস বিশেষ বুলেটিন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency