| বঙ্গাব্দ

২০২৮ থেকে নতুন শিক্ষাক্রম, যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বিষয় | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-06-2026 ইং
  • 11115 বার পঠিত
২০২৮ থেকে নতুন শিক্ষাক্রম, যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বিষয় | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: ২০২৮ থেকে নতুন শিক্ষাক্রম

চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া-সংস্কৃতি ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে কারিগরি ল্যাব বাধ্যতামূলক, যুক্ত হচ্ছে ‘আনন্দময় শিক্ষা’

শিক্ষা প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী ও আমূল পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৮ সাল থেকে দেশে যে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হতে যাচ্ছে, সেখানে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, জীবনমুখী দক্ষতা এবং চাপমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ নতুন আরও চারটি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।

বিষয়গুলো হলো—আনন্দময় শিক্ষা (লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস), খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা

গত সোমবার (৮ জুন) বিকেলে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই মেগা পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

কোন শ্রেণিতে কোন বিষয় বাধ্যতামূলক?

নতুন রূপরেখা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদেরকে ‘ক্রীড়া’ ও ‘সংস্কৃতি’ বিষয় দু’টি প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ শ্রেণি থেকেই বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে। আর মাধ্যমিক স্তরে পা রাখার পর, অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নতুন যুক্ত হওয়া এই চার বিষয়ে প্রচলিত কোনো গ্রেড বা জিপিএ (GPA) নির্ধারণ করা হবে না। শিক্ষার্থীদের কেবল ‘পাস’ বা ‘ফেল’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে, যাতে জিপিএ-৫ পাওয়ার মানসিক চাপ থেকে শিশুরা মুক্ত থাকতে পারে। এছাড়া বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় আরেকটি আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে কী থাকছে?

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, এতদিন স্কুলে খেলাধুলা বা সংস্কৃতিচর্চা হলেও তা মূল শিক্ষাক্রমের অংশ ছিল না। এবারই প্রথম এগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে। তবে অবকাঠামোগত ও নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে প্রথম দিন থেকেই সব খেলা যুক্ত করা যাবে না। প্রাথমিকভাবে ফুটবলের পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক খেলা হিসেবে ‘দাবা’কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, জনপ্রিয়তার কথা বিবেচনা করে এখন থেকেই ‘ক্রিকেট’কেও যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তীতে এই তালিকায় মোট ৮টি খেলা যুক্ত হবে।

সংস্কৃতির বিষয়টিকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে— ১. পারফরমেটিভ (Performance): যেখানে শিক্ষার্থীরা গান, নাচ, আবৃত্তি, বিতর্ক ও উপস্থিত বক্তৃতার মতো শিল্পগুলো সরাসরি মঞ্চে পরিবেশন করে নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করবে। ২. এক্সপ্রেসিভ (Expressive): এখানে মঞ্চে পরিবেশনের চেয়ে পেইন্টিং, সাহিত্য বা সৃজনশীল লেখার মাধ্যমে নিজের ভেতরের ভাবনা বা অনুভূতি প্রকাশ করাটাই হবে মূল বিষয়। শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো একটি মাধ্যম বেছে নিতে পারবে।

কারিগরি ল্যাব ও ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’

শিক্ষাকে কেবল সার্টিফিকেট-সর্বস্ব না রেখে কর্মমুখী করার লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি স্কুলে একটি করে ‘কারিগরি ল্যাব’ স্থাপন করা হবে বলে জানান শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, “কারিগরি শিক্ষাকে আমাদের সমাজে ভিন্ন চোখে দেখা হয়। এই ধ্যানধারণা ভেঙে আমরা একে মূলধারার শিক্ষায় আনতে চাই। সব শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ই একমাত্র পথ নয়। স্কুল থেকে কারিগরি দক্ষতা পেলে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ছাড়াও স্বাবলম্বী হতে পারবে এবং কর্মসংস্থান তৈরি হবে।”

can do অন্যদিকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষা বিষয়ে কোনো পুঁথিগত মুখস্থ বিদ্যা থাকবে না। এটি হবে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার একটি মূল নীতি ও মূল্যবোধ, যাতে শিক্ষার্থীরা ভীতিহীন ও উৎসবমুখর পরিবেশে শিখতে পারে। এই বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ, সামাজিক আচরণ, সততা ও দায়িত্ববোধের মতো জীবনদক্ষতার ব্যবহারিক প্রয়োগ শেখানো হবে। উদাহরণস্বরূপ—বৃক্ষরোপণের তাত্ত্বিক আলোচনার চেয়ে শিক্ষার্থীদের সরাসরি গাছ লাগানো ও তার তাৎপর্য হাতেকলমে শেখানো হবে। একই সাথে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বা মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলোর বাস্তব ব্যবহারিক রূপ এই বিষয়ে দেখানো হবে।

শিক্ষক সংকট ও সরকারি প্রস্তুতি

হঠাৎ এমন বড় পরিবর্তনের পর বিশাল সংখ্যক প্রশিক্ষিত শিক্ষক কোথা থেকে আসবে—গণমাধ্যমের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে এটি মূলত পরীক্ষামূলক বা ‘পাইলট’ প্রজেক্ট হিসেবে সীমিত পরিসরে শুরু হবে। এর সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা মূল্যায়ন করেই ২০২৮ সালে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাক্রম চালু হবে। ইতোমধ্যে যুব ও ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিশেষায়িত ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ পড়ানোর জন্য বিদ্যমান শিক্ষকদের মাঝ থেকেই বাছাই ও বিশেষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শিক্ষক নির্বাচন করা হবে। তাদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ও সৃজনশীল ‘শিক্ষক নির্দেশিকা’ (Teacher's Guide) তৈরি করা হচ্ছে এবং ধাপে ধাপে তাদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। তৃতীয় ভাষা শেখানোর জন্য নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency