| বঙ্গাব্দ

ইরানের ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের খবর অস্বীকার করল আরব আমিরাত | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-06-2026 ইং
  • 8669 বার পঠিত
ইরানের ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের খবর অস্বীকার করল আরব আমিরাত | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: আরব আমিরাত

ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধের শর্তে ইরানকে অর্থ দিচ্ছে ইউএই? রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর রিপোর্টের পর তোলপাড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) অবরুদ্ধ বা জব্দ হয়ে থাকা ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রির রাজস্ব ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আবুধাবি সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছে একাধিক আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্র। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই চাঞ্চল্যকর দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে আমিরাত সরকার জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো অর্থ ছাড় বা হস্তান্তরের ঘটনা ঘটেনি।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই হাই-ভোল্টেজ ও গোপন সমঝোতার খবর প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের সময় টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি হওয়ার পর, সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় তাদের কৌশলগত অবস্থানে বড় ধরণের পরিবর্তন আনছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১০ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের দাবি: শর্ত ‘হামলা বন্ধ’

আঞ্চলিক সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা নিয়ে চলমান পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবেই বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড়ের বিষয়টি সামনে এসেছে। মার্কিন কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে এই অর্থ দীর্ঘদিন ধরে আমিরাতের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি ভিন্ন আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে—সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড় দিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে এবং এর মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ইতোমধ্যে বিশেষ চ্যানেলে তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে আরও দুটি স্পর্শকাতর সূত্র দাবি করেছে, মোট অর্থের পরিমাণ আসলে ২০ বিলিয়ন ডলার। আর এই বিশাল অর্থ ছাড়ের মূল শর্তই হচ্ছে—আমিরাতের ভূখণ্ডে ইরান বা তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সমস্ত ধরণের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চিরতরে বন্ধ রাখতে হবে।

একটি সূত্রের দাবি, প্রথম কিস্তির ৩ বিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে ছাড় করা হলেও এই অর্থ আমিরাতের নিজস্ব রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছে, নাকি দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আটকে থাকা ইরানি মূল সম্পদের অংশ—তা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলল আমিরাত; সতর্ক অবস্থানে ওয়াশিংটন

এদিকে আজ শনিবার (১৩ জুন) ভোরে দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে এই খবরকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়, জব্দকৃত বা অবরুদ্ধ কোনো ইরানি অর্থ ছাড়, স্থানান্তর কিংবা তেহরানকে এ ধরনের কোনো আর্থিক সহায়তা দেওয়ার খবর ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’।

এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উচ্চপদস্থ আমিরাতি কর্মকর্তা বলেন, “অঞ্চলজুড়ে চলমান সামরিক উত্তেজনা প্রশমন, স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠাই আমাদের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষের শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন করছে আমিরাত।”

অন্যদিকে এই অর্থ ছাড়ের গুঞ্জন নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য না করলেও, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance) গতকাল শুক্রবার এক বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, “কোনো চুক্তি বা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিনিময়ে ইরানকে কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। তবে ভবিষ্যৎ কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার আওতায় ইরান যদি পরমাণু বা সামরিক ক্ষেত্রে তার প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে, তবে তারা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুবিধা পেতে পারে।” রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও ইরানের সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আবুধাবিতে আইআরজিসি (IRGC) কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক

এই সমঝোতা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগে ব্যাক-চ্যানেলে এই আলোচনা শুরু হলেও সম্প্রতি ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তারা অত্যন্ত গোপনে আবুধাবি সফর করেন। সেখানে আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে তাঁদের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পরই এই আলোচনা দ্রুত আলোর মুখ দেখে। পরবর্তীতে আমিরাতের একটি উচ্চপর্যায়ের টেকনিক্যাল টিমও কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য তেহরান সফর করে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুবাইয়ের ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ ইরানি অর্থ জমা রয়েছে, যার বড় অংশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। চলমান যুদ্ধের কারণে দুবাইয়ের পর্যটন, রিয়েল এস্টেট ও ব্যবসা খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক বিদেশী বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী দেশ ছেড়েছেন। ফলে সম্ভাব্য এই আর্থিক রফা বাস্তবায়িত হলে তা ইরান-ইউএই সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে, যা আমিরাতের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency