ঢাকা, ২৬ এপ্রিল ২০২৫:
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) উপাচার্য (ভিসি) আবুল কাসেম মিয়া পদত্যাগ করেছেন। একইসাথে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের দশজন শিক্ষকও পদত্যাগ করেছেন। এই পদত্যাগগুলি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটে, যা সারা বছর ধরে জমে থাকা অসন্তোষের একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপাচার্য আবুল কাসেম মিয়া তার পদত্যাগপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেন। পদত্যাগের পর তিনি সাংবাদিকদের সাথে কোনও মন্তব্য না করলেও, তার পদত্যাগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ভূমিকা স্পষ্ট।
এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই, বিজনেস এবং অন্যান্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ আরও দশজন শিক্ষক একইসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন। তাদের পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শিক্ষকদের এই পদত্যাগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বাবা সম্প্রতি মারা যান। ওই শিক্ষার্থী তার বাবার মৃত্যু সনদপত্র সহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন, যাতে তিনি নির্ধারিত সময়ে মিডটার্ম পরীক্ষা দিতে পারেন। তবে, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে অতিরিক্ত ফি পরিশোধের কথা জানানো হয়।
এই ঘটনা নিয়ে ওই শিক্ষার্থী ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পোস্টটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, এটি একটি একক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, অ্যাকাডেমিক অনিয়ম এবং অন্যান্য অসন্তোষের প্রতিফলন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ত্রুটিগুলি দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা সৃষ্টি করে আসছিল। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের পড়াশোনার পরিবেশে একাধিক সমস্যা রয়েছে, যেমন—অ্যাডমিশন প্রক্রিয়ায় ত্রুটি, ক্লাসের অনিয়মিত সময়সূচী, শিক্ষক বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের যথাযথ মনোযোগের অভাব, এবং নানা ধরনের অসন্তোষজনক আচরণ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকও অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সমস্যার প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেয়নি এবং শুধুমাত্র একাধিক সমস্যা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এক্ষেত্রে, সেই ছাত্রের বাবার মৃত্যুর ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায় এবং এটি বিক্ষোভের রূপ নেয়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দিন দিন আরও জোরালো হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু হলে, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানাতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কর্মকর্তাদের কাছেও পদত্যাগের দাবি জানান। এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য ও অন্যান্য শিক্ষকরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টি, শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্টদের মাঝে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যত পরিচালনা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক কার্যক্রম, এবং শিক্ষার্থীদের সাথে সম্পর্ক আরও সংহত করতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যে কোনো ধরনের দুর্বলতা কিংবা অব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য, তা দ্রুত সমাধান করা উচিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনঃস্থাপন করতে প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।
এছাড়াও, শিক্ষার্থীদের উপর অতিরিক্ত ফি চাপানো কিংবা অযৌক্তিক নিয়ম প্রণয়ন পরিহার করা উচিত। সকল পক্ষের মধ্যে সমঝোতা এবং সুসম্পর্ক তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা একটি সুষ্ঠু ও সহায়ক পরিবেশে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।
এ ধরনের ঘটনা আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষার দান করে, যেখানে শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠান নয়, শিক্ষার্থীদের মতামত এবং তাদের সমস্যাগুলোর প্রতি আন্তরিক মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |