আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ফিলিস্তিনের দক্ষিণ গাজার রাফা শহরে ত্রাণের আশায় জড়ো হওয়া ক্ষুধার্ত বেসামরিক জনতার ওপর গুলি চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী, এতে কমপক্ষে ২৫ জন নিহত এবং আরও অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার, ১৯ জুলাই, ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাফার একটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সমর্থিত ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের সামনে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি খাদ্যের আশায় জড়ো হয়েছিলেন। গাজার মানবিক সংকট চরমে পৌঁছানোয়, এ ধরনের কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিনই হাজারো মানুষ ভিড় করছেন।
এই পরিস্থিতিতে ইসরাইলি বাহিনী সেখানে উপস্থিত জনতার ওপর গুলি চালায়, যার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণ হারান অন্তত ২৫ জন এবং আহত হন ৭০ জনেরও বেশি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আহতদের অনেককে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি কারণ রাফায় কোনো কার্যকর চিকিৎসা অবকাঠামো এখন আর নেই।
এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজায় মানবিক সহায়তার কেন্দ্রগুলোতে হামলায় অন্তত ৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যারা গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থানে সহায়তা নিতে গিয়েছিলেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ইসরাইল যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোতে ত্রাণ সহায়তার পথ ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় মৃত্যুর মিছিল চলছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী:
নিহত হয়েছেন ৫৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি
আহত হয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি
অধিকাংশ হতাহতই নারী ও শিশু
এদিকে, গাজার অভ্যন্তরে বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। পানি, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক সেবাও অচল।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলি ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করে, হামলায় ১,২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়।
এর জবাবে ইসরাইল গাজায় সর্বাত্মক সামরিক অভিযান চালায়। ১৫ মাস ধরে চলা সংঘর্ষের মাঝে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের চাপে একবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ইসরাইল।
কিন্তু বিরতির দুই মাস শেষ হওয়ার আগেই ১৮ মার্চ থেকে আবারও নতুন করে অভিযান শুরু করে আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী)।
এই দ্বিতীয় দফার অভিযানে:
৭,৮৪৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন
আহত হন আরও ২৭,৯৯৩ জন (প্রায় ২৮ হাজার)
হামাসের হাতে নেওয়া ২৫১ জন জিম্মির মধ্যে এখনো অন্তত ৩৫ জন জীবিত আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরাইল জানিয়েছে, তারা সামরিক অভিযানের মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
কিন্তু এই সামরিক পদক্ষেপের মূল্য গাজার সাধারণ জনগণকেই চড়া দামে দিতে হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই অভিযোগ করছে।
জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বহু মানবাধিকার সংস্থা গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে “মানবিক বিপর্যয়” বলে অভিহিত করেছে।
তারা একে “ইচ্ছাকৃত গণদমন ও ত্রাণ অবরোধ” বলে দাবি করছে এবং একে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তদন্তের দাবি তুলেছে।
রাফার এই সাম্প্রতিক হামলা শুধু একদিনের ঘটনা নয়, বরং গাজার জনসংখ্যাকে দুর্ভিক্ষ, নিপীড়ন ও মানবাধিকার হরণের দিকে ঠেলে দেওয়ার ধারাবাহিক প্রয়াসের একটি অংশ।
তবে এসব ঘটনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে সমাধান এখনও অনিশ্চিত।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |