প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, ভারত সরকার যদি শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে রাজি না হয়, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে "কিছুই করার নেই"। তবে, তিনি এও জানিয়েছেন যে, ভারত সরকারকে তাকে ফেরত পাঠাতে রাজি করানোর জন্য কূটনৈতিক চেষ্টা চালানো হতে পারে।
আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর, ২০২৫) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে আসা এই বার্তাটি বাংলাদেশের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সাংবাদিকরা পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে জানতে চান, ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা কি সেখানেই স্থায়ীভাবে থাকবেন, নাকি অন্য কোনো দেশে যাবেন। জবাবে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা ভারত ছেড়ে অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে কোনো তথ্য নেই। তার এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, অন্তর্বর্তী সরকার কূটনৈতিক উপায়ে শেখ হাসিনার গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিশ্লেষণ: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতাচ্যুতির পর রাজনৈতিক নেতাদের বিদেশে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। ১৯৭৫ সালের পট পরিবর্তনের পর অনেক নেতাকে বিদেশে থাকতে হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর তার ভারতে আশ্রয় গ্রহণ এবং তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বর্তমান সরকারের এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর জোর দিচ্ছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংবেদনশীল প্রশ্ন নিয়েও কথা বলেছেন:
ডিজিএফআই প্রসঙ্গে: প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) বন্ধ করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, "ডিজিএফআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠান সব দেশেই আছে। তাই এটি বন্ধ করা সহজ নয়।" এই মন্তব্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা বজায় রাখার পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের মনোভাব প্রকাশ করে।
ভিসা জটিলতা: তিনি বলেন, জাল নথিপত্র বা ডকুমেন্ট তৈরি বন্ধ না হলে বাংলাদেশের ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে না। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ভিসা দেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সম্পূর্ণ এখতিয়ার।
নতুন মিশন: বিদেশে নতুন মিশন খোলার বিষয়ে তিনি জানান, এটি সময়সাপেক্ষ বিষয়। অনেকগুলো মিশন খোলার অনুমোদন থাকলেও আর্থিক কারণে তা এখনই চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
ভূ-রাজনৈতিক জোট: ভারতকে বাদ দিয়ে পাকিস্তান ও চীনকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কোনো জোট গঠনের সম্ভাবনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আপাতত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এই নীরবতা ইঙ্গিত দেয় যে, আঞ্চলিক জোট গঠন এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার অত্যন্ত সতর্ক ও পর্যবেক্ষণমূলক অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন এবং ক্ষমতার পালাবদল সবসময়ই আঞ্চলিক রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ভারত সবসময়ই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
১৯৭১-এর প্রেক্ষাপট: স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সরাসরি সমর্থন।
১৯৭৫-পরবর্তী সম্পর্ক: রাজনৈতিক শীতলতা এবং সীমান্ত সমস্যা।
২০০০-পরবর্তী সম্পর্ক: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (যা ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হয়) ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কৌশলগত উচ্চতায় পৌঁছায়।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর তার ভারতে আশ্রয় গ্রহণ এবং তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বর্তমান মন্তব্যটি এই দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের হাতেই। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময় তৈরি করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মো. তৌহিদ হোসেনের প্রেস ব্রিফিং (১০ ডিসেম্বর, ২০২৫)।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক চ্যানেলের তথ্য।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কিত নথি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |