প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা ও আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানো এক বিশেষ শোকবার্তায় তিনি এই সমবেদনা জানান। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) শোকবার্তাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে।
গত ২ জানুয়ারি প্রেরিত শোকবার্তায় অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিশেষ ও সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব ও জনসেবার মাধ্যমে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে গভীর প্রভাব রেখে গেছেন, তা বিশ্ব দরবারে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয়। জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের জনগণ এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রাম বুঝতে হলে বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ জরুরি:
১৯০০-১৯৭১ (প্রেক্ষাপট): ১৯০০ সালের শুরুর দিকে বঙ্গভঙ্গ ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলার রাজনীতিতে যে স্বকীয়তা শুরু হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় বাংলাদেশ। বেগম খালেদা জিয়ার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক।
১৯৮১-১৯৯০ (সংগ্রাম): ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর ঘরোয়া গৃহিণী থেকে রাজপথে নেমে আসেন খালেদা জিয়া। ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তার আপসহীন ভূমিকা তাকে 'দেশনেত্রী' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
১৯৯১-২০০৬ (ক্ষমতা): ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে তিনি ইতিহাস গড়েন। নারী শিক্ষা প্রসারে উপবৃত্তি প্রবর্তন ও প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে তিনি শিক্ষা বিপ্লবের সূচনা করেন।
২০২৪-২০২৬ (শেষ বিদায়): ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর দেশে এক নতুন রাজনৈতিক বাতাবরণ তৈরি হয়। দীর্ঘ অসুস্থতার পর গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫-এ ৮০ বছর বয়সে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি নেত্রী। ৩১ ডিসেম্বর তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চন্দ্রিমা উদ্যানে (জিয়া উদ্যান) সমাহিত করা হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, "খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি বড় স্তম্ভের পতন হলো।" ২০২৬ সালের এই সূচনালগ্নে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেগম জিয়ার অনুপস্থিতিতে দেশের রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ হওয়া দুষ্কর। অনেকেই তাকে 'গণতন্ত্রের আপসহীন মাতা' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
১৯০০ সালের প্রেক্ষাপট থেকে আজ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস মূলত অধিকার আদায়ের ইতিহাস। এই সুদীর্ঘ সময়ে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একমাত্র নারী নেত্রী যিনি দীর্ঘ সময় কারাবরণ ও গৃহবন্দি থেকেও নিজের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। ২০২৬ সালের যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তরুণরা দেখছে, সেখানে খালেদা জিয়ার সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই সবসময় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্লেষণ: বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু কেবল একটি দলের নেত্রীর বিদায় নয়, বরং একটি যুগের অবসান। ২০২৫-২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে তার প্রয়াণ আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আবারও নাড়া দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের শোকবার্তা প্রমাণ করে যে, বিশ্বমঞ্চে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক গুরুত্ব কতটা অপরিসীম ছিল। বাংলাদেশের আগামীর গণতান্ত্রিক পথচলায় তার অভাব অনুভূত হবে প্রতিটি পদক্ষেপে।
সূত্র: * প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং (বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬)।
জাতিসংঘ সংবাদ সেবা।
জাতীয় আর্কাইভ ও বাংলাদেশ প্রতিদিন লাইব্রেরি।
এএফপি ও রয়টার্স।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |