ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের ব্যারেল ১১০ ডলার ছাড়াল; বিশ্ব মন্দার আশঙ্কা
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ ২০২৬ সালের ১১ মার্চ (বুধবার)। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। আজ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের (Brent Crude) দাম প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ মন্দার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে সতর্ক করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
১. তেলের বাজার: ২০% প্রবৃদ্ধি ও সরবরাহে ধস গত এক সপ্তাহে জ্বালানি তেলের বাজারে যে পরিবর্তনগুলো এসেছে:
১১০ ডলারের মাইলফলক: গতকাল ব্রেন্ট ক্রুড ১১৯ ডলারে পৌঁছালেও আজ তা ১১০-১১৪ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে।
হরমুজ প্রণালী সংকট: বিশ্বের মোট তেলের ২০% এই পথ দিয়ে প্রবাহিত হয়। বর্তমানে এই রুটে চলাচলকারী জাহাজগুলো ইরানি হামলার আশঙ্কায় থমকে আছে।
রিজার্ভে টান: অনেক দেশ তাদের জরুরি তেল মজুত (Strategic Reserves) ব্যবহারের চিন্তা করছে, তবুও বাজার শান্ত হচ্ছে না।
২. বিশ্ব মন্দা ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা আইএমএফ (IMF) ও বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদদের মতে:
স্ট্যাগফ্লেশন: উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং ধীর গতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (Stagflation) হওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
পরিবহন খরচ: জ্বালানির দাম বাড়ায় জাহাজ ও ট্রাক ভাড়া বেড়ে গেছে, যার ফলে খাদ্যদ্রব্যসহ প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বিশ্বজুড়ে ২০-৩০% বাড়তে পারে।
শেয়ার বাজারে ধস: আজ সকাল থেকে এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ার বাজারগুলোতে ব্যাপক পতন লক্ষ্য করা গেছে।
৩. বাংলাদেশের ওপর প্রভাব আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়বে:
ভর্তুকির চাপ: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে সরকারকে জ্বালানি খাতে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হবে।
ডলারের ওপর চাপ: তেল আমদানিতে অতিরিক্ত ডলার ব্যয় করতে হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হবে।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ: যুদ্ধের দাবানল এখন সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে আঘাত করছে। ১১০ ডলারের তেল মানে হলো পরিবহণ থেকে শুরু করে কৃষি উৎপাদন—সবকিছুর দাম বৃদ্ধি। বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই সংকটকালীন সময়ে বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজে পাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা। যদি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে ২০২৬ সাল বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ‘অন্ধকার বছর’ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, ব্লুমবার্গ (১১ মার্চ ২০২৬) এবং আইএমএফ ইকোনমিক আউটলুক। বিশ্ব অর্থনীতি ও যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |