বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই। নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা এবং দলটির নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই ঐতিহাসিক তথ্য জানানো হয়।
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২(১)(ট) এবং ‘বিরোধী দলের নেতা এবং উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন, ২০২১’ অনুযায়ী এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ সদস্য বিশিষ্ট দল: সরকারি দলের বাইরে সংসদে অবস্থানকারী সর্বোচ্চসংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত দল বা জোটের নেতা হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান এই মর্যাদা পেলেন।
স্পিকারের ক্ষমতা: সংসদীয় আইন অনুযায়ী, বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতাকে স্পিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রয়োজন হয়, যা আজ স্পিকার নির্বাচনের পরপরই সম্পন্ন হলো।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন (৬৮টি) লাভ করে সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
বিলম্বের কারণ: গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জামায়াত জোটের পক্ষ থেকে তাঁদের নাম প্রস্তাব করা হলেও স্পিকার পদটি শূন্য থাকায় আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ সম্ভব হয়নি। আজ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে সেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
সহযোগিতার রাজনীতি: বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান ইতোমধ্যে জানিয়েছেন যে, তাঁরা সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবেন এবং সরকারের ভালো কাজের সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করবেন।
আইন অনুযায়ী, বিরোধীদলীয় নেতা একজন পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা এবং সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। অন্যদিকে, উপনেতা হিসেবে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পাবেন। এটি কেবল ব্যক্তিগত মর্যাদা নয়, বরং সংসদের ভেতরে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করার একটি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে একটি কার্যকর বিরোধী দল পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পাশাপাশি জামায়াতের এই শক্তিশালী বিরোধী অবস্থান সংসদকে প্রাণবন্ত রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনা করবেন এবং বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত সময় দেবেন।
ডা. শফিকুর রহমানের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর একটি বড় ধরনের উত্তরণকে নির্দেশ করে। এটি একটি বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষণ। বিরোধী দল হিসেবে তারা সরকারের ভুলত্রুটিগুলো কতটা শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে পারে এবং 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নে সরকারকে কতটা চাপে রাখতে পারে, সেটাই হবে আগামী দিনের দেখার বিষয়। বিশেষ করে ডা. তাহেরের মতো অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানের উপনেতা হিসেবে উপস্থিতি সংসদের বিতর্কের মান উন্নত করবে বলে আমি মনে করি।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সমসাময়িক খবরের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |