বিমসটেক সম্মেলনে সামুদ্রিক পরিবহনে সহায়তার চুক্তি স্বাক্ষর, বাংলাদেশের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিমসটেক (বঙ্গোপসাগরী অঞ্চলের দেশসমূহের সংস্থা) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সামুদ্রিক পরিবহনে সহায়তার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি সাতটি দেশের মধ্যে সমুদ্র পরিবহন সম্পর্কিত সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেছেন এবং এটি বিমসটেক অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি সাধন করতে সহায়ক হবে।
চুক্তির বিস্তারিত: বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত মন্ত্রী পর্যায়ের ২০তম বৈঠকের আগে এই চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়। বৈঠকটি বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সামুদ্রিক পরিবহনের সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই চুক্তি বিশেষত সমুদ্র পথে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি, বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নৌচলাচল ব্যবস্থার জন্য সহায়ক হবে। এর ফলে, বাণিজ্যিক সেবা, বিশেষ করে সামুদ্রিক পণ্য পরিবহন আরও সহজতর হবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের বক্তব্য: বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে বিমসটেকের মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্মিলিত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিশ্রুতির কথা বলেন। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিসরে যে অগ্রগতি এবং ভূমিকা রয়েছে, তা তুলে ধরেন তিনি।
রোহিঙ্গা ইস্যু সম্পর্কে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের এই সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য অত্যন্ত জরুরি। তিনি বিশেষভাবে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন। এই ইস্যু শুধু বাংলাদেশ, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য একটি মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচিত।
বিমসটেক সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যোগদান: বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ১২টার দিকে ব্যাংকক পৌঁছান। তার উপস্থিতি এই সম্মেলনে বাংলাদেশের আরও শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে। আজ বিকেলে তিনি বিমসটেক ইয়ুথ জেনারেশন ফোরামের কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করবেন এবং সেখানে ভাষণ দেবেন।
ড. ইউনূস তার ভাষণে যুবসমাজের অংশগ্রহণ এবং তাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করার উপর গুরুত্ব দেবেন। এই উদ্যোগ যুবকদের মধ্যে দেশাত্মবোধ ও সহযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি করবে, যা ভবিষ্যতে বিমসটেক অঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠক: সম্মেলনের ফাঁকে, আগামী শুক্রবার ৪ এপ্রিল, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হতে পারে। এই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা হবে এবং বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষত, সামুদ্রিক পরিবহন, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে তাদের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিমসটেকের আগামী সভাপতি হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দায়িত্ব: বিমসটেক সম্মেলনের শেষদিন, ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী দুই বছরের জন্য বিমসটেকের পরবর্তী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই পদে তার নেতৃত্বে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক দৃশ্যপটে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন সম্ভব হবে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বিমসটেকের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং সহযোগিতা বাড়ানো যাবে, যা পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য ফলপ্রসূ হতে পারে।
সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া: বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা যেমন বিভিন্ন ইস্যুতে বাড়ছে, তেমনি আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধি বৃদ্ধির জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর একত্রিত প্রচেষ্টা আগামী দিনে আরও দৃঢ় হতে পারে। সামুদ্রিক পরিবহন চুক্তি, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও বিমসটেকের ভূমিকা, এবং যুবসমাজের অংশগ্রহণ এসব সবই বিমসটেকের ভবিষ্যত উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বিমসটেকের ভবিষ্যৎ আরও সফল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |