মানিকগঞ্জ, ১৭ এপ্রিল ২০২৫:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের সাবেক শিক্ষার্থী ও খ্যাতনামা ভাস্কর মানবেন্দ্র ঘোষ এর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার (১৬ এপ্রিল) রাতে মানিকগঞ্জের গড়পাড়া ইউনিয়নের চান্দইর গ্রামে দুর্বৃত্তরা তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, এবং একদিন পর পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আমান উল্লাহ বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চিত্রশিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ সম্পর্কিত একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং সন্দেহজনকভাবে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছিলেন:
আল-আমিন ওরেফে তমাল (২২) – সদর উপজেলা ছাত্রলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক
মাইনউদ্দিন আহাম্মদ পিয়াস (২২) – ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
মীম মারুফ – ছাত্রলীগ নেতা
আমিনুর রহমান (২৪) – ছাত্রলীগ নেতা
বাবুল হোসেন (৫৪) – গড়পাড়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামি লীগের সাধারণ সম্পাদক
খান মোহাম্মদ রাফি (সিজন) (১৮) – ছাত্রলীগ নেতা
ওসি এস এম আমান উল্লাহ আরও জানান, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে, যা তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের আশা, জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে, যা দেশের বিভিন্ন স্থানে পালন করা হয়। কিন্তু এ বছর মানিকগঞ্জে বর্ষবরণে অনুষ্ঠিত আনন্দ শোভাযাত্রায় ফ্যাসিস্টের মোটিফ বানানোর সন্দেহকে কেন্দ্র করে অশান্তি সৃষ্টি হয়। এই সন্দেহের পরিণতি হয় মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) রাতে, গড়পাড়া ইউনিয়নের চান্দইর গ্রামে তার বাড়ির মধ্যে আগুন দিয়ে সেটি পুড়িয়ে ফেলা হয়। ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মানবেন্দ্র ঘোষ এবং তার পরিবার। কিন্তু, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো শারীরিক ক্ষতি ঘটেনি। যদিও মানবেন্দ্র ঘোষ শোকাহত, তবে তার পরিবার অক্ষত রয়েছে।
এ ঘটনাটি বড় ধরনের সংঘাত তৈরি করেছে এবং স্থানীয়ভাবে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় জনগণ ও ফেসবুক সহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও দ্রুত গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে একে নৃশংসতা বলে মন্তব্য করেছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, তদন্তে প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানবেন্দ্র ঘোষ একজন পরিচিত চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর, এবং তার কাজগুলো সমাজে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রভাব ফেলেছে। তার বিরুদ্ধে এমন হামলা কোনো রাজনৈতিক ইস্যু, বা সামাজিক উত্তেজনার ফল হতে পারে। তবে, বিষয়টি যে কোনো শিল্পী বা সৃজনশীল মানুষের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
এ ঘটনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের জড়িত থাকার বিষয়টি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। যদিও এই পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় আওয়ামি লীগ নেতারা সহিষ্ণুতা এবং শান্তির পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করেছেন, তাদের মতে, কোনো ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে এই ঘটনা ঘটানো উচিত হয়নি।
এ ঘটনায় মানবেন্দ্র ঘোষ ও তার পরিবার এখনও বিচারের প্রত্যাশা করছেন এবং পুলিশি তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন। তারা আশা করছেন, পুলিশ যত দ্রুত সম্ভব পুরো পরিস্থিতির পরিষ্কার ছবি তুলে ধরবে। এই ঘটনা শুধু শিল্পী সমাজের জন্য নয়, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |