| বঙ্গাব্দ

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৪৩০, নিখোঁজ ৫১ হাজার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-06-2026 ইং
  • 3134938 বার পঠিত
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৪৩০, নিখোঁজ ৫১ হাজার
ছবির ক্যাপশন: ভেনেজুয়েলা

টাইম বোমার মতো টিকটিক করছে ৭২ ঘণ্টা! ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়াদের খালি হাতেই খুঁজছেন ভেনেজুয়েলার নাগরিকেরা

আন্তর্জাতিক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও প্রলয়ংকরী জোড়া ভূমিকম্পের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া হাজার হাজার মানুষের আর্তনাদ থামেনি। উদ্ধারকারীদের আপ্রাণ চেষ্টার মধ্যেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে লাশের সংখ্যা। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রলয়ংকরী দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিখোঁজদের সংখ্যা; এখনো প্রায় ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা (Al Jazeera) শনিবার (২৭ জুন) এক বিশেষ মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এই মহাবিপর্যয়ে ভেনেজুয়েলার সরাসরি ক্ষক্ষতির পরিমাণ ৪ দশমিক ৭ থেকে ৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিধ্বস্ত লা গুয়াইরা অঞ্চল: ফুরিয়ে আসছে অলৌকিক ৭২ ঘণ্টা

উল্লেখ্য, গত বুধবার ভেনেজুয়েলায় রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প পরপর আঘাত হানে। এই জোড়া ভূকম্পনে দেশটির উপকূলীয় ‘লা গুয়াইরা’ (La Guaira) অঞ্চল সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইতিমধ্যে পুরো এলাকাটিকে রাষ্ট্রীয় দুর্যোগকবলিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে কোনো মানুষের জীবিত ফিরে আসার বৈজ্ঞানিক ও আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড সময় বা ‘গোল্ডেন ৭২ ঘণ্টা’ (Golden 72 Hours) প্রায় শেষ হয়ে আসছে বলে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছে বৈশ্বিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলো। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে শুক্রবার রাত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মূল এলাকাগুলোতে যাতায়াতের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে বিশেষ সরকারি অনুমতিপত্র ছাড়া লা গুয়াইরা এলাকায় কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে এই অনুমতি ঠিক কারা এবং কীভাবে পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

সরকারের দাবি বনাম খালি হাতের জনযুদ্ধ

বিপর্যস্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরকারি উদ্ধারকারী দল ও আধুনিক যন্ত্রপাতির উপস্থিতি একেবারেই অপ্রতুল এবং তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। উদ্ধারকাজে ধীরগতির কারণে ক্ষুব্ধ ও মরিয়া স্থানীয় সাধারণ মানুষ নিজেদের স্বজনদের জীবিত উদ্ধারের আশায় কোনো সরঞ্জামের অপেক্ষা না করে সম্পূর্ণ খালি হাতেই কংক্রিটের বিশাল বিশালাকার চাঁই ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ তৎপরতার দাবি করা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত আবেগঘন উল্লেখ করে বলেন, "এই মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে প্রতিটি প্রাণকে জীবিত বাঁচিয়ে আনাটাই হবে এক একটি অলৌকিক ঘটনা। আমরা এই জাতীয় ট্র্যাজেডির কোনো ভয়াবহতা বা সত্যকে দেশের মানুষের কাছে আড়াল করব না।"

অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ (Delcy Rodríguez) জানিয়েছেন, সরকার এই চরম ‘সংকটপূর্ণ সময়ে’ উদ্ধার অভিযানে তার সর্বশক্তি ও সেনাবাহিনী নিয়োগ করেছে। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত সাড়াদানে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল এবং বৈশ্বিক মানবিক সাহায্যকে স্বাগত জানিয়েছেন।

আরাগুয়ায় নতুন আফটারশক, ক্ষতিগ্রস্ত ৬৭ লাখ মানুষ

উপকূলের এই ক্ষত ও কান্নার মাঝেই শনিবার ভেনেজুয়েলার ‘আরাগুয়া’ (Aragua) রাজ্যে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি নতুন আফটারশক বা ভূকম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে নতুন এই কম্পনে বড় ধরনের নতুন কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি।

বেসরকারি ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ৫১ হাজার মানুষের একটি বড় অংশ মূলত মোবাইল নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট টাওয়ার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। ফলে নিখোঁজদের মধ্যে কতজন জীবিত আর কতজন মৃত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং এ পর্যন্ত মাত্র ২৪৩ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-এর ধারণা অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাসসহ ভেনেজুয়েলার প্রায় ৬৭ দশমিক ৬ লাখ (৬.৭ মিলিয়নের বেশি) মানুষ এই মেগা দুর্যোগের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। আইওএম-এর মহাপরিচালক অ্যামি পোপ (Amy Pope) এক জরুরি বিবৃতিতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, "মানুষ আতঙ্কে ও নিরাপত্তার খোঁজে নিজেদের আদি ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন, যার ফলে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এই কঠিন ও মানবিক সংকটের সময়ে ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়ানো এবং দ্রুত আন্তর্জাতিক লজিস্টিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।"

এক নজরে ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্প ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র (জুন, ২০২৬)

  • মূল ঘটনা: বুধবার আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার প্রলয়ংকরী জোড়া ভূমিকম্প।

  • প্রাণহানি: এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার; আহত ৩ হাজার ৩০০ জন।

  • নিখোঁজের মহাত্রাস: এখনো হদিস মেলেনি ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষের।

  • ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ: ইউএনডিপি (UNDP)-এর মতে সরাসরি আর্থিক ক্ষতি ৪.৭ থেকে ৮.৭ বিলিয়ন ডলার।

  • সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল (দুর্যোগকবলিত ও যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি)।

  • নতুন আতঙ্ক: শনিবার আরাগুয়া রাজ্যে ৪.৮ মাত্রার নতুন ভূকম্পন বা আফটারশক অনুভূত।

বিশেষ আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ও পরিবেশ বিষয়ক প্রতিনিধি: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরা অঞ্চলে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের (Red Cross) উদ্ধার অভিযানের লাইভ ডায়েরি, কারাকাসের সর্বশেষ ভূমিকম্প পরবর্তী আবহাওয়া পূর্বাভাস, জাতিসংঘের জরুরি সাধারণ অধিবেশনের ত্রাণ প্যাকেজ এবং বৈশ্বিক সব ব্রেকিং নিউজের দ্রুত ও নির্ভুল আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
খবর রোনাম: মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে: নেপথ্যের বাজার বিশ্লেষণমেটা ডিসক্রিপশন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা কারণ বিশ্লেষণ।অনলাইন ডেস্কমধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত এবং ইরান কেন্দ্রিক চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম মনস্তাত্ত্বিক ১০০ ডলারের নিচেই স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি সপ্তাহে লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—উভয় মানদণ্ডেই তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে কম সূচকে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোতে জ্বালানি ব্যবহারের শ্লথগতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটা সত্ত্বেও বাজারে তেলের দাম লাগামহীন হতে পারেনি।তেলের দাম না বাড়ার প্রধান অনুঘটকসমূহমধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির পরও আন্তর্জাতিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জে তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে বিশ্ব অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক কাজ করছে।চীন ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী সার্বিক ব্যবহার আগের চেয়ে কমেছে। পাশাপাশি, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর অব্যাহত অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি হতে দেয়নি।দর নিয়ন্ত্রণে থাকার মূল কারণসমূহজ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দর ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে থাকার নেপথ্যে যেসব প্রধান কারণ রয়েছে:যুক্তরাষ্ট্র ও অপেক-বহির্ভূত দেশের উৎপাদন: যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও গায়ানার মতো দেশগুলোতে তেলের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করছে।চীনের বাণিজ্যিক মন্দা: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীনে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতির হওয়ায় চাহিদায় ঘাটতি।মার্কিন সুদের হার ও সুদের প্রভাব: উচ্চ সুদের হারের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মন্দার প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।এক নজরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পরিস্থিতিবিষয়বিবরণবাজার স্থিতিপ্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচেউত্তেজনার অঞ্চলমধ্যপ্রা

রোনাম: মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে: নেপথ্যের বাজার বিশ্লেষণমেটা ডিসক্রিপশন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা কারণ বিশ্লেষণ।অনলাইন ডেস্কমধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত এবং ইরান কেন্দ্রিক চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম মনস্তাত্ত্বিক ১০০ ডলারের নিচেই স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি সপ্তাহে লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—উভয় মানদণ্ডেই তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে কম সূচকে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোতে জ্বালানি ব্যবহারের শ্লথগতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটা সত্ত্বেও বাজারে তেলের দাম লাগামহীন হতে পারেনি।তেলের দাম না বাড়ার প্রধান অনুঘটকসমূহমধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির পরও আন্তর্জাতিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জে তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে বিশ্ব অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক কাজ করছে।চীন ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী সার্বিক ব্যবহার আগের চেয়ে কমেছে। পাশাপাশি, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর অব্যাহত অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি হতে দেয়নি।দর নিয়ন্ত্রণে থাকার মূল কারণসমূহজ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দর ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে থাকার নেপথ্যে যেসব প্রধান কারণ রয়েছে:যুক্তরাষ্ট্র ও অপেক-বহির্ভূত দেশের উৎপাদন: যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও গায়ানার মতো দেশগুলোতে তেলের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করছে।চীনের বাণিজ্যিক মন্দা: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীনে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতির হওয়ায় চাহিদায় ঘাটতি।মার্কিন সুদের হার ও সুদের প্রভাব: উচ্চ সুদের হারের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মন্দার প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।এক নজরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পরিস্থিতিবিষয়বিবরণবাজার স্থিতিপ্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচেউত্তেজনার অঞ্চলমধ্যপ্রা

ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency