ইরানের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের শহীদ রাজাই বন্দরে সোমবার (২৮ এপ্রিল) ভয়াবহ রাসায়নিক বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৪০ জনে পৌঁছেছে এবং আহতের সংখ্যা ১২শ’ ৫জন ছাড়িয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এই তথ্য জানায়। বিস্ফোরণটি বন্দরটির একটি কনটেইনারে ঘটেছিল, যার ফলে পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর এলাকাজুড়ে সালফারজাতীয় পদার্থের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর প্রচার করে এবং জাতীয়ভাবে এটির গুরুত্ব তুলে ধরে। ইরানের সংসদের সামাজিক কমিটির সদস্য আহমাদ ফাতেমি এই ঘটনার তদন্তের জন্য 'নিরীক্ষণ সংস্থা ও বিচার বিভাগ'কে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং জবাবদিহিতার দাবিও জানিয়েছেন। তিনি বলেন,"যেসব স্থানগুলোতে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে, সেখানে নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে পালন করা উচিত ছিল।"
এ ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। ইরানের বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশ ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলি বিস্ফোরণের পর ইরানের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ইরানের অনুরোধে যেকোনো সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত।
রাশিয়া তার দূতাবাসের মাধ্যমে জানিয়েছে, ইরানের সহায়তার জন্য কোনো অনুরোধ আসলে তা মস্কো থেকে পাঠানো হবে।
ইরাকও সহায়তা প্রদান করার কথা জানিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি ইরানের সাথে সহায়তা সমন্বয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
এখনো স্পষ্ট নয় কনটেইনারগুলোতে কী ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ছিল, তবে বিস্ফোরণের পর সেখানকার ধোঁয়া ও গন্ধের কারণে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে এই বিস্ফোরণের পেছনের কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়ানো যায়। পাশাপাশি, এটি কিভাবে ঘটল এবং পরবর্তী সময়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইরানকে সমবেদনা জানালেও, তারা প্রয়োজনীয় সহায়তারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকে সহায়তা আসা ইরানের জন্য একটি বড় আশ্বাস, কারণ ওই অঞ্চলে রাসায়নিক বিস্ফোরণের মতো ঘটনা আরও বড় সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |