পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আকাশ ও স্থলপথে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করছে ভারত। শুক্রবার (২ মে) উত্তর প্রদেশের গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে যুদ্ধবিমানের জরুরি অবতরণের অনুশীলন চালায় ভারতীয় বিমান বাহিনী। এই মহড়া বিশেষভাবে নজর কেড়েছে কারণ এটি এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ও কূটনৈতিক বিরোধ ক্রমশ বাড়ছে।
জানা গেছে, উত্তর প্রদেশে নির্মাণাধীন গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ৩.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ‘ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি’ (ELF) তৈরি করে সেখানেই মহড়াটি পরিচালনা করা হয়। এ মহড়ায় অংশ নেয় ভারতীয় বিমান বাহিনীর আধুনিক যুদ্ধবিমান রাফাল, জাগুয়ার, মিরেজ-২০০০, সুখয়-৩০, মিগ-২৯ এবং পরিবহন বিমানের মধ্যে অন্যতম C-130J সুপার হারকিউলিস। এসব বিমান একে একে রানওয়েতে অবতরণ ও উড্ডয়ন করে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্যবহারের অনুশীলন করে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এ ধরনের অনুশীলন মূলত যুদ্ধকালীন জরুরি পরিস্থিতিতে মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েগুলোকে বিকল্প রানওয়ে হিসেবে ব্যবহারযোগ্য রাখার অংশ হিসেবেই করা হচ্ছে।
ভারতের এই কার্যক্রমের একদিন আগেই, পাকিস্তান ঝিলমের তিল্লা ফায়ারিং রেঞ্জে বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালায়। এতে অংশ নেয় দেশটির যুদ্ধবিমান, কামান, ট্যাংক এবং অন্যান্য ভারী অস্ত্র। এই মহড়ার সময় পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, পাকিস্তান বর্তমানে ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দুই দেশের মধ্যে টানটান উত্তেজনার মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ইসলামাবাদ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কাশ্মীর সীমান্ত ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই দেশের একাধিক ইস্যুতে বিরোধ বেড়েছে। পাকিস্তান অভিযোগ করছে, ভারত তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করছে। অপরদিকে, ভারত অভিযোগ করেছে যে, পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদীদের অনুপ্রবেশ বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই সামরিক মহড়াগুলো উভয় দেশের জন্যই একটি শক্ত বার্তা বহন করে—যা সীমান্তে সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হওয়ায় এই ধরনের সামরিক তৎপরতা শুধু দক্ষিণ এশিয়াই নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি করছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং শান্তি বজায় রাখতে এই দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |