| বঙ্গাব্দ

হর্ষবর্ধন শ্রিংলার মন্তব্যে জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ: ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-01-2026 ইং
  • 2381342 বার পঠিত
হর্ষবর্ধন শ্রিংলার মন্তব্যে জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ: ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন
ছবির ক্যাপশন: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

শ্রিংলার মন্তব্যে জামায়াতের হুঙ্কার: ‘ভোট কাকে দেবে তা ঠিক করবে এ দেশের জনগণ, ভারত নয়’

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: "নির্বাচনে কারচুপি হলে জামায়াত ক্ষমতায় আসবে"—বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও বর্তমান রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলার এমন মন্তব্যে বাংলাদেশে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি, ২০২৬) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে একে ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন।

শ্রিংলার সেই বিতর্কিত বক্তব্য

গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছিলেন, "জামায়াত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে কখনো জিততে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। অতীতে তারা কখনোই ৫ থেকে ৭ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। নির্বাচনে অনিয়ম হলেই তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে, নয়তো আসা অসম্ভব।"

‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও তথ্যবিকৃত’

শ্রিংলার এই মন্তব্যের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় এবং একটি বৈধ রাজনৈতিক দল সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতির পরিপন্থী। শ্রিংলা যে তথ্য দিয়েছেন তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। বাংলাদেশের জনগণ কাকে ভোট দেবে, তা নির্ধারণ করার এখতিয়ার কোনো বিদেশি রাজনীতিকের নেই।"

১৯০০ থেকে ২০২৬: আধিপত্যবাদ বনাম জাতীয়তাবাদ

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে আজকের ২০২৬ সালের নির্বাচন পর্যন্ত—বিদেশি শক্তির প্রভাব বা মন্তব্য সবসময়ই এ দেশের মানুষের কাছে সংবেদনশীল বিষয়। ১৯০০ সালের সেই উত্তাল স্বদেশী আন্দোলনের চেতনা থেকেই বাংলাদেশের মানুষ সবসময় নিজেদের ভাগ্য নিজেরা নির্ধারণ করতে চেয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী এই ‘নতুন বাংলাদেশে’ ভারতের কোনো নেতার এমন মন্তব্যকে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলো ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে শ্রিংলার এই বক্তব্য দুই দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক সৌহার্দ্য ক্ষুণ্ন করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

কূটনৈতিক শিষ্টাচারের আহ্বান

বিবৃতিতে জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও জানান, জামায়াত একটি নিবন্ধিত ও আদর্শভিত্তিক গণতান্ত্রিক দল। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণই প্রকৃত রায় দেবে এবং এ বিষয়ে তাদের কোনো সংশয় নেই। তিনি ভারতের দায়িত্বশীল মহলকে এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকার এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানান।


তথ্যসূত্র ও ক্রেডিট:

  • বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় প্রচার সেল (বিবৃতি তারিখ: ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬)

  • ভারতীয় সংবাদ সংস্থা ও দার্জিলিং প্রেস ক্লাব রিপোর্ট

  • আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পর্যবেক্ষণ ডেস্ক

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency