বাংলাদেশ প্রতিদিন ডেস্ক:
ইসরায়েলের প্রতি এবার সরাসরি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রেজা সাঈদ বলেছেন,
“তোমাদের জন্য আগামী দিনগুলোতে সতর্কীকরণ—অধিকৃত অঞ্চলগুলো ছেড়ে দাও। কারণ ভবিষ্যতে এসব আর বসবাসযোগ্য থাকবে না!”
এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় রোববার (১৫ জুন) রাতে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন হাইব্রিড হামলা শুরুর পরপরই। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা পৃথক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আরও বলেন,
“আমরা গত কয়েকদিনে ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলের সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছি। আমাদের নজরে রয়েছে সামরিক ঘাঁটি, নিরাপত্তা কেন্দ্র, সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেন্দ্র এবং সামরিক বিজ্ঞানীদের বাসস্থানসহ নানা লক্ষ্যবস্তু।”
তিনি ইসরায়েলি জনগণকে সরাসরি সতর্ক করে বলেন,
“অপরাধী শাসকগোষ্ঠী আপনাদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। সেই সুযোগ দেবেন না। ইসরায়েলি কমান্ড কাঠামো ও পরিকল্পনাগুলো আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।”
সবচেয়ে কড়া বার্তাটি ছিল—
“মাটির নিচেও আশ্রয় নিলে তোমরা নিরাপদ থাকবে না। সতর্কবার্তা উপেক্ষা করলে ভবিষ্যৎ আরও ভয়াবহ হবে।”
রোববার রাতে ইরান যে নতুন ধারা চালু করেছে, সেটিকে হাইব্রিড হামলা বলা হচ্ছে। এই কৌশলে মিলিতভাবে সাইবার অ্যাটাক, ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ব্যবহৃত হয়। ইরানের এই কৌশল ইসরায়েলকে বেশ বড় ধরনের চাপের মধ্যে ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হাইব্রিড যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো — প্রতিপক্ষ কখন, কোথা থেকে, কীভাবে আঘাত পাবে তা অনুমান করা কঠিন হয়ে যায়।
এই হুমকি ও হামলার ঘটনায় এখনো জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সরাসরি যুদ্ধবিরতির দাবি ওঠেনি। তবে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে জার্মানি, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হুমকি শুধু ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যকেও নাড়িয়ে দিতে পারে।
ইরানের এই প্রকাশ্য হুমকি ও হাইব্রিড হামলার পেছনে একটি শক্ত বার্তা রয়েছে— ইরান আর ‘কূটনৈতিক সংযম’ দেখাতে নারাজ।
এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে— আগামী সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে কি সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হবে, নাকি কূটনীতি শেষ মুহূর্তে থামাতে পারবে আগুন?
🔴 বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে মুহূর্তে মুহূর্তে সবশেষ আপডেট পেতে ভিজিট করুন বাংলাদেশ প্রতিদিন।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |